>
আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার করুন আমাদের সাথে।
![]() |
| জুলাই সনদের বিষমিশ্রিত ফাঁদ |
[ad1]
জুলাই সনদের পক্ষে ইন্টেরিমের এভাবে গণভোট চাওয়ায় গণমানুষের অবশ্যই পড়ে দেখা দরকার যে জুলাই সনদে আসলে কী আছে। নিশ্চয়ই ভালো কিছু হবে। কিন্তু বিশ্লেষণে দেখা যায়, আসলে তা ভালোর সাথে বিষ মিশানো। গণভোটের প্যাকেজ এমনভাবে তৈরি যাতে, তা গ্রহণ করা মানে বিষসহ গ্রহণ করা। উদাহরণস্বরূপ, জুলাই সনদের ৮৪ নং ধারাতে দেখা যায়, বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘Open Goverment Partnership’ এর পক্ষভুক্ত হতে হবে। এর সাথে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কোন সম্পর্ক আছে কিনা তা আমরা কেউ কি জানি?
![]() |
| জুলাই সনদ |
বিএনপি, এনসিপি, জামায়াতে-ইসলামী সহ প্রধান দলগুলো এটার পক্ষে মত দিয়েছে। এই ‘Open Government Partnership’ সংগঠনের নাম দেখতে সুন্দর লাগলেও, তারা একইসাথে ‘LGBT’ মিশ্রিত করে পুশ করতে চায় এর আন্ডারের দেশগুলোতে। OGP তাদের ওয়েবসাইটের ‘পলিসি এরিয়াতে’ খোলাখুলিভাবেই এলজিবিটি প্রোমোটিং করে। বলছে, এরা আন্ডারের দেশগুলো এজিবিটি ‘অধিকার’ এর উপর জোর দিচ্ছে, এলজিবিটি সংগঠন খুলছে ইত্যাদি। দেখুন এখানে। ওয়েবসাইটের অন্যত্রও এমন ধরণের লেখা খোলাখুলি রয়েছে।
ওজিপি’র সদস্যদের ‘ফান্ডামেন্টাল’ বা মৌলিক বিষয় হচ্ছে তাদের ‘ইনক্লুশন’ করতেই হবে এলজিবিটি’দেরকে। ইতোমধ্যেই এলজিবিটি ২৪টি কাজ করে ফেলেছে বিভিন্ন দেশে ওজিপি। দেখুন এখানে।
[Labelbox label="গণভোট" limit="3" type="grid"]
ওজিপি’র ফেইসবুক পেইজ ঘাঁটলে দেখা মেলে এসবের। ২০২৫ সালের ৩রা জুন তারা লিখে,
“When governments are open, no one is left behind.
#PrideMonth is a reminder that inclusive open government is more than just visibility—it means actively protecting LGBTQIA+ communities, defending their rights, and ensuring they are heard, safe, and free to participate in shaping the policies that impact their lives.”
![]() |
| LGBTQ এর পক্ষে Open Goverment Partnership এর ফেসবুক পোস্ট |
এ ধরণের আরও খোলাখুলি কার্যক্রম দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে সহ আর বিভিন্ন স্থানে।
জুলাই সনদের ফাঁদ এখানেই শেষ নয়। জুলাই বিক্রি করে চলা ইন্টেরিম আবার সেই জুলাইয়ের স্পিরিটের বিরুদ্ধে গিয়ে কোটা, ট্রান্সকোটা অন্তর্ভুক্ত করেছে। কী ভয়ংকর!
[Labelbox label="LGBTQ" limit="3" type="list"]
মূল্যবোধ আন্দোলন এর আরো কিছু দিক তুলে ধরেছে,
“ইসলামী মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ শত শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া জুলাই সনদের একটি ধারাতেও ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ বা আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের স্থান হয়নি, বরং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে আড়াল করে পশ্চিমা বহুত্ববাদী ও সেকুলার সমাজদর্শনকে একচেটিয়া প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
জুলাই সনদের ৭ নম্বর ধারায় বলা হয়েছেঃ সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি অংশে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি’ উল্লেখ থাকবে। আবার ৮ নম্বর পয়েন্টে বলা হয়েছে “সংবিধানে এরূপ যুক্ত করা হবে যে, বাংলাদেশ একটি বহু-জাতি-গোষ্ঠী, বহু-ধর্মী, বহু-ভাষী ও বহু-সংস্কৃতির দেশ যেখানে সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।”
[ad3]
এই সনদে কুরআন ও সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন বা বিধান পাশ করা হবে না এমন গ্যারান্টিসূচক কোন বক্তব্য না থাকায় ‘সাম্য’, ‘সামাজিক ন্যায়বিচার’ বা ‘Social Justice’, ‘গোষ্ঠী’, ‘সম্প্রদায়’ ইত্যাদি অসংজ্ঞায়িত পরিভাষা সমূহের মাধ্যমে পশ্চিমা সমকামী অধিকার দর্শন তথা এলজিবিটি অন্তর্ভুক্তির সুযোগকে অবারিত করা হয়েছে। কেননা এই পরিভাষাগুলো এলজিবিটি অন্তর্ভুক্তিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই আশংকা অধিকতর ঘনীভূত হওয়ার কারণ : সংবিধান সংস্কার কমিশন সংবিধানে নারী-পুরুষের সমতার ধারায় লিঙ্গ বিষয়ক অনাবশ্যক শব্দ জুড়ে দিয়ে ট্রান্সজেন্ডার ও এলজিবিটিদেরকে লিঙ্গভিত্তিক গোষ্ঠী পরিচয়ে স্বীকৃতি প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। সরকার ইসলামি মূল্যবোধের প্রতি আক্রমণাত্মক সুপারিশ সম্বলিত নারী সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন বাতিল না করে বরং সংগোপনে তা বাস্তবায়ন শুরু করে দিয়েছে।
কোটা বিরোধী চেতনা থেকে উদ্ভূত গণ অভ্যুত্থানের আকাঙ্খাকে অবমূল্যায়ন করে জুলাই সনদের ২১ ও ২২ নম্বর ধারার মাধ্যমে সংসদে ও প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষে ক্রমবর্ধমান নারী কোটার বিধান রাখা হয়েছে। এই কোটাতেও আমরা ট্রান্সনারী তথা সমকামী পুরুষ অন্তর্ভুক্তির আশঙ্কা করছি।
[Labelbox label="নির্বাচন" limit="3" type="grid"]
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ!
জুলাই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষার সাথে অসংগতিপূর্ণ ধারাযুক্ত জুলাই সনদের ওপর গণভোট হচ্ছে। জুলাই সনদকে দেশবাসীর কাছে ব্যাপকভাবে তুলে না ধরেই গণভোট নেয়া হচ্ছে। আমরা যারপরনাই উদ্বিগ্ন যে, এই সনদকে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে জনগণের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের বিরুদ্ধে আইন-বিধান প্রণীত হবে। মূল্যবোধবিরোধী অপরাধ আর অপরাধ থাকবে না। অপরাধকারীরা বৈধতা পেয়ে মুসলিম জনপদে বিপর্যয় ডেকে আনবে।
ইসলামপন্থী দলগুলোও ইনক্লূসিভ তত্ত্বের ফাঁকফোকর ও ষড়যন্ত্রকে যথাযথভাবে উপলদ্ধি না করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর ইন্টেরিমের সুশীল শব্দের মারপ্যাঁচে পতিত হয়েছেন বলে প্রতীয়মান হচ্ছে যার ফলে হাজারো শহীদের রক্তভেজা এই দেশ গভীর ফিতনার দিকে ধাবিত হচ্ছে।”
[Labelbox label="LGBTQ" limit="3" type="grid"]
এ ছাড়াও ইন্টেরিম ১১+ সমকামী বান্ধব প্রকল্প ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করেছে কিংবা করছে বলে মূল্যবোধ আন্দোলন ডকুমেন্টস দেখিয়েছে।
পাঠকগণ, এভাবে আসলে সব ‘প্যাকেজ’ হিসাবে গ্রহণ করা যায় না। এমন জুলাই সনদ বর্জনীয়, এমনটা আমাদের আকাঙ্ক্ষিত ছিল না।
[Labelbox label="Bangladesh" limit="4" type="list"]