 |
| আভিজাত্য আর ঐতিহ্যের ধারক রাজশাহীর বাঘা শাহী মসজিদ |
আধুনিক সময়ের স্থাপত্যশৈলীতে প্রযুক্তি ও উপকরণের নতুনত্ব থাকলেও পাঁচশ বছরের পুরানো অপরূপ কারুকাজ আর টেরাকোটার নকশার স্থাপনা দেখলে বিস্ময়ে থমকে যেতে হয়। আভিজাত্য, নির্মাণশৈলী আর ইসলাম ধর্ম প্রচারের ইতিহাস মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে রাজশাহীর বাঘা শাহী মসজিদে।
[ad1]
বাংলাদেশের ৫০ টাকার নোট ও ১০ টাকার স্মারক ডাকটিকিটে স্থান পাওয়া এই মসজিদটি রাজশাহীর বাঘা উপজেলা সদরে অবস্থিত। ১০ গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদে পাঁচটি দরজা থাকলেও বর্তমানে ব্যবহৃত হয় দুটি।
ভেতরে চার কোনায় রয়েছে চারটি চৌচালা গম্বুজ, ছয়টি স্তম্ভ এবং কারুকার্যখচিত চারটি মেহরাব। আয়তাকার এই মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৭৫ ফুট ও প্রস্থ ৪২ ফুট। মেঝে থেকে ছাদের উচ্চতা সাড়ে ২৪ ফুট এবং দেয়ালের পুরুত্ব আট ফুট।
[ad2]
পুরো দেয়ালজুড়ে রয়েছে লাল পোড়ামাটির কারুকাজ আর টেরাকোটার চোখধাঁধানো নকশা। মাঝখানের দরজার ওপর রয়েছে ফারসি হরফে লেখা শিলালিপি। মাটি পুড়িয়ে কেটে কেটে তৈরি করা নকশায় আম, শাপলা ফুল, লতাপাতাসহ হাজার রকম কারুকাজ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
মসজিদটিকে ঘিরে রয়েছে প্রায় ২৫৬ বিঘা জমি। এখানে হজরত শাহ মোয়াজ্জেম ওরফে শাহেদৌলা, তার ছেলে হজরত শাহ আবদুল হামিদসহ অনেক সাধকের মাজার রয়েছে। এছাড়া দরগাহ শরিফ ও জাদুঘরের পাশাপাশি মসজিদের সামনে রয়েছে বিশাল এক দীঘি। সম্প্রতি নারীদের নামাজের জন্য আলাদা একটিসহ মোট দুটি নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে এখানে।
[ad3]
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম সারোয়ার জানান, আজ থেকে ৬০০ বছর আগে বাঘা অঞ্চল গভীর বনজঙ্গলে ঘেরা ছিল। জনবসতি তেমন ছিল না বললেই চলে। ওই সময়ে বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশীদের বংশধর হজরত মাওলানা শাহ আব্বাসের ছেলে হজরত শাহ মোয়াজ্জেম ওরফে শাহেদৌলা ইসলাম প্রচারের জন্য পাঁচ সঙ্গীসহ বাঘায় আসেন এবং আস্তানা গড়ে তোলেন। তিনি এ এলাকায় হজরত শাহ দৌলা (রহ.) নামে পরিচিতি পান।
অধ্যাপক গোলাম সারোয়ার আরও জানান, হজরত শাহ দৌলা সে সময় একটি মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীকালে ১৫২৩ থেকে ১৫২৪ সালে হোসেন শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা আলাউদ্দিন শাহের ছেলে সুলতান নুসরাত শাহ বর্তমান মসজিদটি নির্মাণ করেন। পাশের বিশাল দীঘিটি খনন করে এর মাটি দিয়ে জায়গাটি উঁচু করে তার ওপর এটি নির্মাণ করা হয়।
[Labelbox label="মসজিদ" limit="3" type="list"]
একসময় এখানে এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বড় একটি মাদরাসা ছিল। তবে ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে মসজিদের ওপরের ১০টি গম্বুজ ভেঙে যায়, যা ১৯৭৭ সালে নতুন করে নির্মাণ করা হয়। পবিত্র ঈদুল ফিতরের সময় অনুষ্ঠিত ওরস মোবারকে এখানে লাখো মানুষের ঢল নামে।
৫০২ বছরে পা দেয়া সবুজ-শ্যামল পরিবেশে অবস্থিত এই অপূর্ব স্থাপনাটির ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোকে সম্প্রতি তালিকাভুক্ত করেছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর। এসব নিদর্শন রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের দাবিও লিখিতভাবে অধিদফতরকে জানানো হয়েছে।
[Labelbox label="Bangladesh" limit="4" type="grid"]