
হঠাৎ করেই দেশীয় মিডিয়াতে আবার তালিবান সরকারের নতুন আইন নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে দেখানো হচ্ছে যে নতুন আইন স্বামীদেরকে ‘হাড় না ভাঙা’ পর্যন্ত স্ত্রীদেরকে মারার অধিকার দিচ্ছে। দৈনিক ইত্তেফাক, বিডিনিউজ২৪, ইন্ডিপেন্ডেন্ট২৪ এবং কালের কণ্ঠ এ ধরণের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
শিকড়ের সন্ধানে
যখনি ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের ব্যাপারে কোনো কটু দাবি করা হয়, তখনি সেটার ভিত্তি বা সেই সংবাদ প্রচারের শিকড় খুঁজে বের করা প্রয়োজন। অনুসন্ধান চালিয়ে দেখা গেলো, বাংলাদেশের সবগুলো মিডিয়া প্রায় একই সুরে সংবাদ প্রকাশ করেছে। আরও চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, একই ধাঁচের প্রতিবেদন আনন্দবাজার ও হিন্দুস্তান টাইমসের মতো ভারতীয় মিডিয়াতে ১৯ ফেব্রুয়ারি ফলাও করে প্রচার করা হয়।
পরে দেশীয় ও ভারতীয় মিডিয়ার এই প্রোপাগান্ডাগুলোর উৎস খুঁজতে গিয়ে দেখা গেলো, তাদের গোড়া এক জায়গায় যেয়ে মিলে যায়, আর তা হলো পশ্চিমা বয়ান। ইন্ডিপেন্ডেন্ট, জর্জটাউন ইন্সটিটিউট ফর উইমেন পিস এন্ড সিকিউরিটি ও দ্য সান সহ বিভিন্ন পশ্চিমা মিডিয়া ও প্রতিষ্ঠান থেকে আফগান নারীর প্রতি ‘সহিংসতা’ নিয়ে প্রতিবেদন ও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সবার আগে।
অর্থাৎ প্রথমে পশ্চিমা মিডিয়া একটা বয়ান তৈরি করে বাজারে ছেড়েছে। এরপর সেখান থেকে ভারতীয় মিডিয়া সেগুলোকে ইসলামবিদ্বেষের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছে। তারপরে বাংলাদেশী মিডিয়া সেগুলো বুঝে বা না বুঝে প্রচার করে গিয়েছে।

কিন্তু বাস্তবেই কি আফগান নারীদের জীবনকে পিষে ফেলছে তালিবান?
খন্ডন
২০২৬ সালের ৭ জানুয়ারি তালিবানের আমির হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা ৯০ পৃষ্ঠার একটি ফরমান জারি করেন, যাতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আদালতের জন্য নতুন ফৌজদারি কার্যবিধি বিধিমালা (১১৯টি ধারা, ৩টি অধ্যায় ও ১০টি অনুচ্ছেদ) অনুমোদন করেন এবং ঘোষণা দেন যে স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই এটি কার্যকর হবে। এই বিধিমালার অনুলিপি আফগানিস্তানের বিভিন্ন আদালতে বিতরণ করা হয়েছে।
এই দন্ডবিধি নিয়ে মিডিয়াগুলো বেশ কয়েকটি আপত্তি জানিয়েছে এবং তালিবানের বর্বরতার দাবি করেছে। সেগুলোর বাস্তবতা দেখা যাক।
নারীদের ‘দাস’-এর সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে
পশ্চিমা মিডিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশি মিডিয়াও ফলাও করে প্রচার করছে যে নারীদেরকে নতুন বিধি অনুযায়ী ‘দাস’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে। এখানে ‘অধীনস্থ’ আর ‘দাস’ দুইটাকে একই অর্থে দেখেছে মিডিয়াগুলো। অফিসের বসের অধীনেই সবাই সাধারণত চাকরি করে থাকে। এক্ষেত্রে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কি বসের দাস? নিশ্চয়ই ‘না’।
তাহলে স্ত্রী কীভাবে স্বামীর দাস হন? প্রত্যেক স্ত্রী-সন্তানের দায়িত্ব পরিবারের কর্তা তথা স্বামীর। স্বামী যেহেতু পরিবারের প্রধান ব্যক্তিত্ব এবং অভিভাবক, তাই তার অধীনেই থাকতে হয় বাকিদেরকে। এটাই পরিবারব্যবস্থা, যেটার ব্যত্যয় ঘটলে স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে। এখানে ‘অধীনস্থ’ থাকা মানে ‘দাসত্ব’ নয়, বরং স্বামীর দায়িত্বে থাকা।
স্ত্রীর হাড় না ভাঙা পর্যন্ত চলবে পেটানো
ধারা ৩২ অনুযায়ী, যদি কোনো স্বামী অতিরিক্ত প্রহারের মাধ্যমে তার স্ত্রীকে আঘাত করেন, যার ফলে হাড় ভেঙে যায়, আঘাত লাগে বা শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় এবং স্ত্রী বিচারকের সামনে তার দাবি প্রমাণ করতে পারেন, তবে স্বামীকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে। বিচারক তাকে ১৫ দিনের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করবেন।
এটাকে মিডিয়া দাবি করছে যে হাড় না ভাঙা পর্যন্ত নাকে পেটানোর অনুমতি দিয়েছে দেশটির ‘চরমপন্থী’ সরকার। বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেহেতু বিষয়টা খুবই সংবেদনশীল, তাই আমরা এটার গভীরতা কুরআনের আয়াত, তাফসীর এবং নতুন বিধির যুক্তি দিয়ে বুঝার চেষ্টা করব।
পবিত্র কুরআনের সূরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “পুরুষ নারীদের অভিভাবক, যেহেতু আল্লাহ তাদের এককে অন্যের উপর মর্যাদা দিয়েছেন আর এজন্য যে পুরুষেরা নিজেদের সম্পদ হতে ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যবতী স্ত্রীগণ অনুগত হয়ে থাকে, পুরুষের অনুপস্থিতিতে তারা তা (তাদের সতীত্ব ও স্বামীর সম্পদ) সংরক্ষণ করে যা আল্লাহ সংরক্ষণ করতে আদেশ দিয়েছেন। আর যেসকল স্ত্রীর ব্যাপারে তোমরা অবাধ্যতার আশংকা কর, (প্রথমে) তাদেরকে বুঝাও এবং (তাতে না শোধরালে) তাদের বিছানায় ত্যাগ করো এবং (তাতেও সংশোধিত না হলে) তাদেরকে মারতে (প্রহার করতে) পারো। যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো পথ খুঁজো না।”
তাফসীরে আহসানুল বায়ান অনুসারে, এই আয়াতের তাফসীরের দুটি অংশ রয়েছে। প্রথম অংশে পুরুষদের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বশীলতার দুটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে। একটি হলো আল্লাহ প্রদত্ত শক্তি, সাহস ও মেধা এবং দ্বিতীয়টি হলো উপার্জনের গুরুভার। দ্বিতীয় অংশে অবাধ্য স্ত্রীর প্রতি স্বামীর আচরণের ধারণা বর্ণনা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে স্বামী তিন ধাপে স্ত্রীকে সংশোধনমূলক শাস্তি দিতে পারে। কিন্তু এর মধ্যে কোনো একটি ধাপে যদি স্ত্রী শুধরে যায়, তবে পরবর্তী ধাপে যাওয়াটা ইসলামের দৃষ্টিতে ‘জুলুম’ বলে সাব্যস্ত হবে।
কিছু পুরুষ এই অধিকারকে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে থাকে। ফলে তুচ্ছ কারণে তালাক দিয়ে নিজের স্ত্রীর এবং সন্তানদের জীবন নষ্ট করে থাকে। তাদের ব্যাপারেই আয়াতের শেষ অংশে বলা হয়েছে যে মৃদু প্রহারের পরে কেউ শুধরে গেলে আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
সব মিলিয়ে একটা পরিপূর্ণ ধারণা দেওয়া হয়েছে উক্ত আয়াতে।
এখানে প্রথমে উপদেশের কথা বলা হয়েছে, এরপর বিছানা ত্যাগের কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ এক অর্থে শারীরিক সম্পর্ক থেকে দূরে থাকার বিষয়ও উঠে এসেছে। কিন্তু এরপরেও যদি স্ত্রী না শোধরায়, তার মানে হলো তাকে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে সংশোধন করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে কীভাবে প্রহার করতে হবে বা কতটুকু মারা যাবে?
কোনো কোনো ইমামের মতে, মেসওয়াকের কাঠি বা এই জাতীয় কিছু দিয়ে আঘাত করা যাবে। আর এগুলো সাধারণত কয়েক ইঞ্চি হয়ে থাকে। শাইখ আবু ফয়সাল বাদরানীর মতে ৩য় পর্যায়ে গিয়ে স্ত্রীকে মারা যাবে, তবে সেক্ষেত্রে যেমন মুখে মারা যাবে না, তেমনি মারার সময় গালিগালাজ করা যাবে না। এক্ষেত্রে একদিকে যেমন শুধু নিজের রাগ চরিতার্থ করার জন্য আঘাত করা যাবে না, তেমনি আঘাত করার সময় যেন দেহে ক্ষত না তৈরি হয় এমনভাবে ‘মৃদু’ প্রহার করতে হবে।
আর এক্ষেত্রে যতই সংশোধনমূলক উদ্দেশ্য থাকুক না কেন তাতে যদি স্ত্রীর দেহে ক্ষত তৈরি হয়, সেক্ষেত্রে স্বামীকে শাস্তি বা জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে বলেই একাধিক মাযহাবের ইমামগণ থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর এটা স্বাভাবিক জ্ঞানের বিষয় হলো, জখম বা আঘাতের চিহ্ন হওয়ার আগে পর্যন্ত মারতে পারা মানে হলো সেটা নিঃসন্দেহে ‘মৃদু প্রহার’।
একটি আয়াতের উপরে ভিত্তি করেই আফগানিস্তানে দন্ডবিধি প্রণয়ন করা হয়েছে। সুতরাং কেউ যখন এই বিধি নিয়ে প্রশ্ন তুলবে, তখন সেটা কুরআনের দিকেই প্রশ্ন তোলার অনুরূপ। আবার কেউ যদি এই বিধি অমান্য করে, সেটাও কুরআনকে অমান্য করার অনুরূপ।
এখানে আরও একটা বিষয় লক্ষণীয়। ১৫ দিনের কারাদন্ড নিয়েও অনেক সমালোচনা হচ্ছে। তবে এটা ‘হদ’ না, বরং ‘তাযির’। ‘হদ’ দিয়ে যেসকল শাস্তি নির্দেশ করে, সেগুলো সাধারণত নির্ধারিত হয়। কিন্তু ‘তাযির’ এর শাস্তি অপরাধীর অপরাধের ধরণ, মাত্রা (আগে কতবার করেছে বা প্রথমবারেই কতটুকু করেছে) এগুলোর উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ ১৫ দিনের হিসাবটা এখানে একটা ‘প্রাথমিক পরিমাণ’। আবার স্ত্রীর অঙ্গহানি হলে তখন আবার অন্য ধারায় শাস্তিবিধান হবে।
বাবার বাড়িতে গেলে নারীর শাস্তি কারাদন্ড
৩৪ নং ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ছাড়া ও বৈধ কারণ ব্যতীত বারবার তার বাবার বাড়ি বা অন্যান্য আত্মীয়ের বাড়িতে যান, সেখানে অবস্থান করেন এবং স্বামীর অনুরোধ ও আদালতের সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও বাবা বা অন্যান্য আত্মীয়রা তাকে স্বামীর কাছে ফেরত দিতে অস্বীকার করেন, তবে স্ত্রী ও যারা বাধা প্রদান করেন – উভয়কেই অপরাধী হিসেবে গণ্য করা হবে। এক্ষেত্রে বিচারক উভয়কে তিন মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করবেন।
এখানে ৩টা বিষয় লক্ষণীয় – ‘অনুমতি ছাড়া’, ‘বৈধ কারণ ব্যতীত’ এবং ‘বারবার’। অর্থাৎ নারীকে আগে স্বামীর কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে যেকোনো জায়গায় যাওয়ার জন্য। এটাও পরিবার ও সমাজের স্থিতিশীলতার জন্য জরুরি। কারণ আগেই বলা হয়েছে, নারী ও সন্তানেরা পুরুষের দায়িত্বে থাকেন। তো সেই পুরুষকেই না জানিয়ে কোনো জায়গায় চলে যাওয়া মানে একদিকে যেমন পরিবারব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা ডেকে আনা, অন্যদিকে সমাজের মধ্যেও ফিতনা তৈরির আশঙ্কা সৃষ্টি হওয়া।
এছাড়াও এখানে ‘বৈধ কারণ’ এর কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে বৈধ কারণ বলতে যৌক্তিক কারণকে বুঝানো হচ্ছে। কোনো নারী যদি কোনো বেপর্দা পরিবেশের উৎসবে যান, সেটা বৈধ কারণ হবে না, যতই সেটা তার বাবার বাড়িতে হোক না কেন। তাছাড়াও ‘বারবার’ কথাটাও বলা হয়েছে। এর মানে একবারেই এই শাস্তি নয়। বরং স্বামীর একাধিকবারের অনুরোধ বা আদালতের আদেশ যদি কেউ অমান্য করে, তখন তাকে ও তার সাথে থাকা উস্কানিদাতাদেরকে শাস্তি স্বরূপ কারাদন্ড দেওয়া হবে।
এক্ষেত্রে অন্যদেরকেও কারাদন্ড দেওয়ার পেছনে দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, তাদের কারণেই স্ত্রী এমন অবাধ্য হওয়ার বিশেষ সুযোগ পাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, স্বামী-স্ত্রীর স্বাভাবিক সম্পর্কের মধ্যে তৃতীয় পক্ষের প্রবেশ এক ধরণের অনধিকার চর্চা।
মুরতাদ নারীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও বেত্রাঘাত
ধারা ৫৮ অনুযায়ী একজন বিচারক মুরতাদ বা ইসলাম ত্যাগকারী নারীকে ইসলামে ফেরানোর উদ্দেশ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করবেন এবং প্রতি তিন দিনে তাকে দশটি করে বেত্রাঘাত করা হবে। সুনানে আবু দাঊদের হাদিস অনুযায়ী, মুরতাদ পুরুষের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। ইসলামিক শাসন বা ইসলামিক রাষ্ট্রের মধ্যে থেকে কেউ ইসলাম ত্যাগ করলে তাকে শাস্তি পেতে হবে-এটি ইসলামী আইনের একটি মৌলিক ধারণা।
এখানে বিষয়টা বুঝতে হবে ইসলামিক শাসনের মধ্য দিয়ে। সাধারণ দেশগুলোতে সেক্যুলার শাসন চলে। এখানে কোনো ব্যক্তি ইসলাম ত্যাগ করলে সেটার সাথে শাসনব্যবস্থার কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু ইসলামী শাসনে রাষ্ট্রব্যবস্থাও গঠিত হয় ইসলামের নীতির উপর ভিত্তি করে। এখানে যখন কেউ ইসলাম ত্যাগ করছে, তখন সে রাষ্ট্রব্যবস্থাকেও প্রত্যাখ্যান করছে। আর এর মাধ্যমে সে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রতি কোনোভাবেই দায়বদ্ধ থাকে না, যা এক ধরণের ‘প্রকাশ্য বিদ্রোহ’।
তাহলে ইসলামিক শাসনে ইসলাম ত্যাগ করা সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতার সমতুল্য। সুতরাং, মুরতাদ হওয়া মানে শুধু মৌলিক বিশ্বাস ত্যাগ নয়, বরং রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য থেকে সরে আসা। আর যেকোনো সেক্যুলার রাষ্ট্রও এমন ব্যক্তিকে কঠোরতম শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা ফাঁসি দিয়ে থাকে। ইতিহাস ঘাঁটলেও এমন বহু নমুনা পাওয়া যায়।
সেখানে সংশোধনের উদ্দেশ্যে কোনো মুরতাদ নারীকে বেত্রাঘাত করা বা যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া নিছক অত্যাচার বা পীড়ন নয়, বরং আইনি দিক বিবেচনায় অন্তত বাস্তবসম্মত ও যৌক্তিক। কারণ আফগানিস্তানে কোনো লিবারেল গণতন্ত্র চলছে না, চলছে ইসলামিক শাসন; যেখানে ইসলাম ত্যাগ করার মানে হলো রাষ্ট্রকেই বুড়ো আঙুল দেখানো।
মন্তব্য
নারীর প্রতি কথিত সহিংসতা নিয়ে যতগুলো আপত্তি বা অভিযোগ তুলে ধরেছে পশ্চিমা, ভারতীয় ও বাংলাদেশি মিডিয়া, তার সবগুলোই খন্ডন করা হলো। তবে কিছু জায়গায় প্রশ্ন করার জায়গা আছে। যেমন – স্বামী যদি জখম করে ফেলে, সেটার বিচার দিতে গেলে আদালতে মাহরাম পুরুষকে নিয়ে যেতে হবে। এটা ঠিকই আছে, কিন্তু যাদের মাহরাম শুধুমাত্র স্বামী, তাদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা কেমন হবে সে ব্যাপারে জানা যাচ্ছে না সেরকম কিছু। এরপর স্ত্রী অনুমতি ছাড়া বারবার বাবার বাড়ি গেলে তার যে ৩ মাসের কারাদন্ড হবে, সেটার ধরণ কীরূপ হবে সেটাও সম্ভবত স্পষ্ট নয়। তালিবানের দন্ডবিধিতে জুলুমের ছিটে-ফোঁটাও নেই, তবে কিছু বিষয় অস্পষ্ট থেকে গিয়েছে।
যদিও আফগান সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা বা প্রশ্ন তোলার মতো জায়গা আছে। কিন্তু সবকিছুকে পশ্চিমা চশমায় দেখার নাম সমালোচনা নয়। আমি সবসময়ই বলি, তালিবানের ব্যাপারে প্রতিবারই পশ্চিমা মিডিয়াগুলো একপেশে বয়ান হাজিরের চেষ্টা করে যায়। কারণ তাদের টার্গেট যতটা না তালিবান, তার চাইতেও বেশি ইসলামি ইমারাহ।

ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের নীতিসমূহ এখনো পর্যন্ত শরিয়াহ অনুসারেই চলছে। বাকিটা এবং ভবিষ্যৎ একমাত্র আল্লাহ জানেন। যদি আগামী দিনে তালিবান সরকার ইসলামের নীতি ও মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে সেটা তখন নিঃসন্দেহে নিন্দিত হবে। কিন্তু মিডিয়ার বর্তমান উদ্দেশ্য একেবারেই ভিন্ন এবং সেই প্রোপাগান্ডামূলক একপেশে আচরণ নিঃসন্দেহে মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে।
(প্রতিবেদনটির লেখক কোনো আলিম নন। তবে এক্ষেত্রে যেসকল ফিকহি পরিভাষা ও ইসলামিক ব্যাখ্যা উপস্থাপন করা হয়েছে, তা ইতিহাস বিখ্যাত ফহিকগণের কাছ থেকেই প্রাপ্ত। প্রবন্ধটি প্রকাশের বহু আগেই হদ ও তাযিরের ব্যাপারে লেখক একাধিক প্রশ্নেরও উত্তর জেনে নিয়েছেন অভিজ্ঞ মুফতির কাছ থেকে।)