>
আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার করুন আমাদের সাথে।
![]() |
| ইরানে ইসরায়েলি হামলায় হোয়াটসঅ্যাপঃ গোপন অস্ত্র নাকি গুজব? |
ইরান অভিযোগ করেছে যে হোয়াটসঅ্যাপ সংবেদনশীল ইউজার ডেটা ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ফাঁস করেছে। তাদের মতে, এই গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঘটনাই ইসরায়েলকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক বিমান হামলা চালাতে সহায়তা করেছে, যাতে ইরানের একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন।
[ad1]
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপের মালিক প্রতিষ্ঠান মেটা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাকে উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তাদেরকে ‘ট্র্যাক ও শনাক্ত’ করতে সহায়তা করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ফাঁস হওয়া তথ্যে লোকেশন ট্যাগ ও যোগাযোগ সংক্রান্ত মেটাডাটা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
আইআরআইবি নাগরিকদের হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মতো অ্যাপ মুছে ফেলতে পরামর্শ দিয়েছে। তাদের দাবি, এসব অ্যাপ মোবাইল ফোন চালু হওয়া বা ইন্টারনেটে সংযুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহারকারীর অবস্থান রেকর্ড করতে থাকে। কর্তৃপক্ষ আরও সতর্ক করেছে যে সংবেদনশীল স্থানে মোবাইল ফোন বহন করা উচিৎ নয় এবং বিশেষ করে কৌশলগত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের অনিরাপদ সফটওয়্যার ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিৎ।
[Labelbox label="Iran" limit="3" type="grid"]
অন্যদিকে মেটা তেহরানের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে যে হোয়াটসঅ্যাপ ‘এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন’ ব্যবহার করে এবং ব্যবহারকারীর অবস্থান ট্র্যাক করে না বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্যাবলি সংরক্ষণ করে না। সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মেটার একজন মুখপাত্র এসব প্রতিবেদনকে ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে ইরান হয়তো তাদের সেবা বন্ধ করার অজুহাত হিসেবে এ ধরনের দাবি করছে।
[ad2]
তেহরানের সতর্কবার্তা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন এনক্রিপটেড ম্যাসেজিং অ্যাপগুলো নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলাপ বাড়ছে। গোপনীয়তার দাবিদার টেলিগ্রাম সম্প্রতি এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কেন্দ্রবিন্দুতে আসে, যেখানে দাবি করা হয় যে অ্যাপটির প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এমন এক রুশ নেটওয়ার্ক প্রকৌশলী দ্বারা পরিচালিত, যারা অতীতে রাশিয়ার এফএসবি ও প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।
মেটাও আগে ইসরায়েলপন্থী অবস্থানের অভিযোগে সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মতে, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোতে ফিলিস্তিনপন্থী অনেক কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বা এলগরিদমের মাধ্যমে সেগুলোকে একটা নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে আবদ্ধ করা হয়েছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে ফিলিস্তিন সমর্থকদের এক হাজারের বেশি পোস্ট সরানো বা আড়াল করা হয়েছে।
![]() |
| সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি ন্যারেটিভকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ আরও জোরালো হচ্ছে। |
এসব ঘটনার ফলে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি ন্যারেটিভকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।
[Labelbox label="Israel" limit="3" type="grid"]
ইরানের অভিযোগ আংশিকভাবে গুরুত্ব পেয়েছে অতীতের কিছু ঘটনার কারণে, যেখানে এনক্রিপটেড প্ল্যাটফর্মও যুদ্ধের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।
২০১৯ সালে হোয়াটসঅ্যাপ ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার কোম্পানি এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা করে। অভিযোগ ছিল, তাদের প্যাগাসাস সফটওয়্যার ‘জিরো-ক্লিক’ এক্সপ্লয়েটের মাধ্যমে সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীসহ ১,৪০০ ব্যবহারকারীর ফোনে অনুপ্রবেশ করেছে।
২০২৫ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল জুরি হোয়াটসঅ্যাপের পক্ষে রায় দেয় এবং এনএসও গ্রুপকে ১৬৮ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এটি ছিল প্রথম আইনি রায়, যেখানে একটি স্পাইওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে এনক্রিপটেড ম্যাসেজিং প্ল্যাটফর্মের অখণ্ডতা ভঙ্গের দায়ে দায়ী করা হয়। যদিও এনএসও অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তবে প্যাগাসাসের কল, বার্তা, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও লোকেশন ডেটায় প্রবেশের সক্ষমতা এনক্রিপটেড প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে সন্দেহ বাড়িয়েছে। পরে প্যাগাসাস ৫০টিরও বেশি দেশে নজরদারি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যায় এবং ২০২১ সালের ‘প্যাগাসাস প্রজেক্ট’-এ দাবি করা হয়, হাজার হাজার ফোন নম্বর তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল, যার মধ্যে রাজনৈতিক নেতাদের নম্বরও ছিল।
আইস্টোরিজ-এর সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে টেলিগ্রামের প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর অখণ্ডতা নিয়েও গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, টেলিগ্রামের হাজার হাজার আইপি ঠিকানা ও সার্ভার কার্যক্রম ভ্লাদিমির ভেদেনিয়েভ নামে এক রুশ নেটওয়ার্ক প্রকৌশলীর নিয়ন্ত্রণে, যার অন্যান্য কোম্পানি রুশ গোয়েন্দা সংস্থা এফএসবি ও সামরিক-সংযুক্ত গবেষণা কেন্দ্রকে সেবা দিয়েছে।
যদিও টেলিগ্রাম এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের দাবি করে, তবুও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে তাদের এমটিপ্রোটো প্রোটোকলে এনক্রিপটেড নয়, এমন কিছু মেটাডাটা রয়েছে, যা ব্যবহারকারীর ডিভাইস আইডি ও আইপি-ভিত্তিক অবস্থান ট্র্যাক করার সুযোগ করে দিতে পারে।
[ad3]
বিদেশি নজরদারি ও প্ল্যাটফর্মের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় ইরানসহ কয়েকটি দেশ ‘ডেটা লোকালাইজেশন আইন’ জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে। এসব আইনে ব্যবহারকারীর তথ্য দেশের ভেতরেই সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়। এ ধরনের নীতি মার্কিনভিত্তিক ক্লাউড অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতা কমায় এবং সংবেদনশীল তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত বা শেয়ার হচ্ছে তার ওপর জাতীয় পর্যায়ে আইনি নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়।
উদাহরণস্বরূপ, ভারত নির্দিষ্ট শ্রেণির ব্যক্তিগত তথ্য স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবসহ বিস্তৃত তথ্য সুরক্ষা বিধিমালা প্রণয়ন করেছে। তুরস্কের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ (কেভিকেকে) বিদেশে তথ্য প্রবাহ সীমিত করতে বিভিন্ন কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আরেকটি জনপ্রিয় পন্থা হলো নিজস্ব ম্যাসেজিং অ্যাপ ও ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। ইরান তাদের দেশীয়ভাবে হোস্ট করা অ্যাপ ‘সোরুশ’ চালু করেছে। পাকিস্তান ২০২৩ সালে সরকারি ব্যবহারের জন্য ‘বিপ পাকিস্তান’ নামে একটি ম্যাসেজিং অ্যাপ চালু করে। দীর্ঘদিনের ডাটা নিরাপত্তা উদ্বেগ ও ইন্টারনেট বিঘ্নের প্রেক্ষাপটে ফেডারেল কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য এটি তৈরি করা হয়। ন্যাশনাল ইনফরমেশন টেকনোলজি বোর্ড (এনআইটিবি) এটি উন্নয়ন করেছে এবং বিদেশি প্ল্যাটফর্মের বিকল্প হিসেবে স্থানীয়ভাবে হোস্ট করা নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য। এসব প্ল্যাটফর্মকে সাধারণত বেশি নিরাপদ এবং বিদেশি হস্তক্ষেপ থেকে সুরক্ষিত বলে প্রচার করা হয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে, যেখানে বিদেশি নজরদারি ও প্রযুক্তিগত দুর্বলতা নিয়ে অভিযোগ বাড়ছে, সেখানে আধুনিক যুদ্ধে ম্যাসেজিং অ্যাপের ভূমিকা নিয়ে ইরানের সতর্কবার্তা ডিজিটাল মিডিয়ার উপর নির্ভরতার ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি সম্পর্কে গভীর চিন্তার ইঙ্গিত দেয়।
সূত্রঃ টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও The aasr
[Labelbox label="Tech" limit="3" type="grid"]