>
আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার করুন আমাদের সাথে।
![]() |
| সরকারের নির্ধারিত দামে বিক্রি হবে ২৯৫টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ |
অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকায় নতুন করে ১৩৫টি ওষুধ যুক্ত করেছে। এর ফলে এই তালিকায় মোট ওষুধের সংখ্যা দাঁড়াল ২৯৫-এ। এই তালিকাভুক্ত ওষুধগুলোর জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্য বেঁধে দেবে, যা আগামী দিনে সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা খরচ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা পরিষদের এক বৈঠকে এ সংক্রান্ত নীতিমালা ও ফরমুলা চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার হেয়ার রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে ওষুধ সহজলভ্য ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের সভায় নতুন ওষুধ মূল্য নীতিমালা এবং জাতীয় অত্যাবশ্যক ওষুধের হালনাগাদ তালিকার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে তালিকাভুক্ত ওষুধগুলো সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে বিক্রি করা যাবে না। তার ভাষায়, এটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা সরাসরি দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের চিকিৎসা প্রাপ্যতা ও খরচের ওপর প্রভাব ফেলবে।
১৯৮২ সালে প্রণীত ওষুধ নীতির মাধ্যমে দেশীয় ওষুধ শিল্পের বিকাশ এবং সাধারণ মানুষের কাছে ওষুধ সহজলভ্য করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সময়ের সঙ্গে এই লক্ষ্য দুর্বল হয়ে পড়ে।১৯৯৪ সালে সব ওষুধের ওপর মূল্য নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া হয় এবং মাত্র ১১৭টি ওষুধে সীমিত করা হয়। গত তিন দশক এই কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় নিয়ন্ত্রিত তালিকার বাইরে ওষুধের সংখ্যা বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১,৩০০-এ পৌঁছেছে। এর ফলে ওষুধের দামে ব্যাপক বৈষম্য তৈরি হয়েছে এবং স্বাস্থ্য খাতে মোট ব্যয়ের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ওষুধ কেনায় ব্যয় হচ্ছে, যা ব্যক্তিগত পকেট থেকেই দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবার মতো কোনো বড় সুরক্ষা কাঠামো না থাকায় অত্যাবশ্যক ওষুধের তালিকা হালনাগাদ ছাড়া বিকল্প ছিল না।
প্রস্তাবিত নতুন নীতিমালায় তালিকাভুক্ত ওষুধের দাম নির্ধারণের জন্য একটি নির্দিষ্ট ফরমুলা অনুসরণ করা হবে। এতে কাঁচামাল (এপিআই ও এক্সিপিয়েন্ট), উৎপাদন ব্যয় এবং প্রচলিত মুনাফার হার বিবেচনায় নেওয়া হবে। যেসব কোম্পানির বর্তমান মূল্য নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি, তাদের চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে নির্ধারিত মূল্যে নামতে হবে। এতে শিল্প খাত পর্যায়ক্রমে মানিয়ে নিতে পারবে।
অত্যাবশ্যক তালিকার বাইরে থাকা ১,০০০-র বেশি ওষুধের ক্ষেত্রে উৎপাদকরা মূল্য প্রস্তাব করবে। যদি কোনো ওষুধ সাতটির বেশি কোম্পানি উৎপাদন করে, তবে ‘ইন্টারনাল রেফারেন্স প্রাইসিং’-এর মাধ্যমে ১৫ শতাংশের একটি দামের সীমার মধ্যে আসতে হবে। আর যদি উৎপাদক সাতটির কম হয়, তবে দেশের ভেতরের দাম ও বিদেশি বাজারের দাম (পিপিপি সমন্বয় করে) তুলনা করে যেটি কম, সেটির ভিত্তিতে মূল্য অনুমোদন দেওয়া হবে।
নতুন ওষুধ, প্যাটেন্টযুক্ত ওষুধ এবং বায়োলজিক্যাল ওষুধের জন্য আলাদা ক্যাটাগরি ও আলাদা ফর্মুলা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে দ্রুত বিকাশমান বায়োলজিক্যাল ওষুধ খাতে গবেষণা ও বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে অতিরিক্ত সুবিধা রাখা হয়েছে। ডা. সায়েদুর রহমান জানান, শিগগিরই এই সিদ্ধান্ত গেজেট আকারে জারি করা হবে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ভবিষ্যতে ওষুধের দাম নির্ধারণ ও নজরদারির জন্য বিদ্যমান ব্যবস্থার বাইরে একটি স্বাধীন ‘ন্যাশনাল ড্রাগ প্রাইসিং অথরিটি’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। আপাতত এই দায়িত্ব পালন করবে ড্রাগ প্রাইস ফিক্সেশন কমিটি। তিনি আরও বলেন, গত ১৪ মাসে একটি টাস্কফোর্সের মাধ্যমে উৎপাদক, বিপণনকারী, চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, ওষুধ বিজ্ঞানী এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে এবং সবার সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতেই নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশের ২০২৬ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় কমিশনের সদস্য হবেন বলে জানানো হয়েছে। ডাটা সংক্রান্ত বিষয়ে ডাটা লোকালাইজেশন উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এখন ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়েছে। আগে শিল্পকলা একাডেমীর ডিপার্টমেন্ট কম ছিল, এখন তা বেড়ে নয়টি হয়েছে। নয়টি বিভাগের মধ্যে রয়েছে— প্রশাসন অর্থ, থিয়েটার, চলচ্চিত্র, আলোকচিত্র, পারফর্মিং আর্ট, গবেষণা ও প্রকাশনা, নিউ মিডিয়া, কালচারাল ব্র্যান্ডিং উৎসব ও প্রযোজনা, সংগীত ও চারুকলা। শিল্পকলা একাডেমীর বোর্ডে সরকার নৃগোষ্ঠীদের মধ্যে থেকে একজনকে নিয়োগ করতে পারবে, এই বিধানও রাখা হয়েছে।
এছাড়া বৈঠকে বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন অধ্যাদেশ ২০২৬ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত ‘এনডিসি থ্রি’ ভূতাপক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, কোম্পানির অপরাধের ক্ষেত্রে এখন কারাদণ্ডের বিধান তুলে নেওয়া হয়েছে। আগে কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড ছিল, সেটা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এখন শুধু অর্থদণ্ডের বিধান থাকবে। তিনি আশা করেন, এতে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা মিলবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে উপ প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বলেন, গতকাল রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। পুলিশ পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা মামলা দায়ের করেছে এবং সম্ভাব্য আক্রমণকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে। তবে এখন পর্যন্ত এই মামলায় কোনো গ্রেপ্তার নেই।