>
আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার করুন আমাদের সাথে।
![]() |
| ~ রাখাল'রা আমাদের জন্য লিটমাস টেস্ট! ~ |
...
অচিরেই আমরা একটি আদর্শিক দ্বন্দ, আদর্শিক সংঘাতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। এটি হচ্ছে ইসলাম বনাম কুফরের দ্বন্দ্ব। আমরা এর ইঙ্গিত একাধিক বার পেয়েছি। এই সংখ্যা এত বেশি যে, এটি অস্বীকার করা, করতে চাওয়া, ভুলে থাকা বা উপেক্ষা করা হচ্ছে ধ্বংসাত্মক! মাদার অফ অল ডেভিল হাসিনার আমলে ইসলাম ছিল আঘাত করার একটি আদর্শ টার্গেট।
.
প্রতিটি ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচার নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য তারা এক ধরণের কাল্পনিক শত্রু তৈরি করে নিত। জনগণের মনে তারা এই শত্রুকে চিত্রিত করে দিত, চিহ্নিত করে দিত। এরপরে তারা এই শত্রুর ব্যাপারে তারা জনমনে ভীতি তৈরি করত, তাদেরকে দেখানো হত নতুন শত্রুরা দেশ এবং জাতির শত্রু। তারা জনগণের শত্রু। তারা নিরাপত্তার হুমকি! এরপরে ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচার তার পোষা বাহিনী নিয়ে নায়কের মত এই কল্পিত, চিত্রিত শত্রু নিধনে নেমে যেত! তাদেরকে সমস্ত রকম নির্যাতন, হত্যা, জেল জুলুম নিপীড়নের মাধ্যমে দমন করত এবং তারা প্রমাণ করতে চাইত, দেশ, জাতি এবং জনগণের এই শত্রু দমনে কত তৎপর! এভাবে তারা নিজেদের জুলুমের মেকানিজম টিকিয়ে রাখার অজুহাত জাস্টিফাইড করার চেষ্টা করত! আর এই শত্রু বানানোর জন্য তাদের সবচেয়ে সহজ টার্গেট ছিল ইসলাম, মুসলিম, দাড়ি, টুপি, মাদ্রাসা...
.
এমনকি হাসিনা পালিয়ে যাবার পরেও এই সিস্টেমের মৌলিক কোন পরিবর্তন হয়নি। রাখালের মত ব্যাক্তিরা যখন প্রকাশ্যে আল্লাহকে নিয়ে জঘন্য মন্তব্য করে, যা এমনকি যে কোন বেইসিক ইথিক্যাল এটিকেটস এর বিবেচনায় চূড়ান্ত বেয়াদবি এবং ঔদ্ধত্যপূর্ন, তখন আপনাকে অবশ্যই বুঝে নিতে হবে এগুলো র্যান্ডম কিছু নয়। হতে পারেনা।
.
ধরা যাক, রাখাল যে জঘন্য কথা উচ্চারণ করেছে, ঠিক এই বাক্য গুলো আমরা রাখালের বাবা-মা, তার স্ত্রী-সন্তানের সাথে প্রয়োগ করতে পারি কিনা! ধরা যাক বাংলাদেশের কোন উপদেষ্টা কিংবা সকল উপদেষ্টার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারি কিনা! পারলে কেন পারি? না পারলে কেন পারিনা?
.
এমন কিছু হলে দেশ এবং দেশের কথিত সিস্টেমের প্রতিক্রিয়া কি হত? কেন হত?
.
এই একই কথা যদি ব্যাক্তি আমাদের সাথে, আমাদের পিতা, মাতা, স্ত্রী সন্তানদের উদ্দেশ্য করে বলা হত তাহলে আমাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হত!?
.
এবার তাহলে প্রশ্ন করা যাক, সাজ্জাদুর রহমান শাওনের পিতা মাতার কলংক, রাখালের মত একজন আত্মপরিচয় সংকটে ভুগতে থাকা নমুনা যখন সমস্ত সৃষ্টি জগতের রব্ব, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতালাকে নিয়ে এমন ঔদ্ধত্য দেখানোর সাহস পায়, যখন আমাদের রব্ব আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতালার ব্যাপারে এমন জঘন্য আলোচনা লিখে ফেলার দুঃসাহস দেখায়, তখন আমাদের প্রতিক্রিয়া ঠিক কোথায় এবং কতটুকু!
.
সময় নিয়ে ভেবে দেখুন তা ঠিক কেমন এবং কতটুকু! কারণ -
রাখালের মত বিকৃত, আত্মপরিচয় সংকটে ভোগা নমুনাদের কাজ এটুকুই যে, তারা আমাদের ঈমানের মধ্যে কতটুকু পচন ধরেছে তা বুঝার চেষ্টা করে! আমরা কতটুকু উদাসীন হয়েছি তা পর্যবেক্ষণ করে! এভাবেই তারা চূড়ান্ত আদর্শিক সংঘাতের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করে, আর অপেক্ষা করে সেই মুহূর্তের জন্য যখন তারা বুঝতে পারে,- এই জমিনে বেঁচে থাকা, চলে ফিরে বেড়ানো মুসলিমরা এমন অনুভূতি শুন্য হয়েছে যেখানে তাদের রবের ব্যাপারে, তাদের রাসুলের ব্যাপারে, তাদের দ্বীনের ব্যাপারে যা ইচ্ছা তাই বলা যায়!
এরাই বসে আছে আমাদের সন্তানদের শিক্ষা ব্যাবস্থা প্রণয়নে! তারা ঠিক করে দিবে আমাদের সন্তানরা কি শিখবে আর কি শিখবেনা!
.
.
এখনো পর্যন্ত রাখাল রাহার বিরুদ্ধে সরকারকে কোনো পদক্ষেপ নিতে আমরা দেখিনি। দেশের কোটি কোটি মুসলিমের অন্তর খুন করে দেয়ার মত উস্কানি ছড়িয়ে তারা সমাজে ঠিক কেমন শান্তি এবং স্থিতিশীলতা আশা করে তা আমাদের জানা নেই। একের পর এক অস্থিরতা এবং উস্কানির মত ঘটনা ঘটিয়ে সে আবার মাফ চায়! এগুলো আসলে তাদের নৃশংস প্রতারণা! তারা আসলে সুশীলের বেশে, "ক্ষমা প্রার্থী" এসব শব্দের আড়ালে হায়েনার হাসি হাসে! এরা খুব ভালো করে লক্ষ্য করে আমাদের প্রতিক্রিয়া! যখন দেখে অবস্থা বে গতিক তখন "ক্ষমা" চায়! তারা আসলে আমাদের কী মনে করে!
.
আসুন আমরা ভেবে দেখি আমাদের এ ব্যাপারে কি করনীয় আছে! রাখাল'রা কি সত্যিই ক্ষমার যোগ্য?!
---