> ~ পিলখানা ম্যাসাকারঃ যা নিয়ে আমাদের কথা বলা প্রয়োজন ~ - As-Sidq News
সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি এখানে দেখুন Follow Now!

রমজান

... ...
অপেক্ষা করুন...
00:00:00
বাকি আছে
My Social Save Data, Connect Friends Login

~ পিলখানা ম্যাসাকারঃ যা নিয়ে আমাদের কথা বলা প্রয়োজন ~

~ পিলখানা ম্যাসাকারঃ যা নিয়ে আমাদের কথা বলা প্রয়োজন ~
Islamic dayeri
Please wait 0 seconds...
Scroll Down and click on Go to Link for destination
Congrats! Link is Generated

 

~ পিলখানা ম্যাসাকারঃ যা নিয়ে আমাদের কথা বলা প্রয়োজন ~


স্বাধীন হবার আগেই ভারত বাংলাদেশকে একটি অপমানজনক গোপন চুক্তি করতে বাধ্য করে, যা মুজিবনগর সরকার ও ভারত সরকার মধ্যকার একটি গোপন মৈত্রী চুক্তি।[1]

.

এই চুক্তির ৭ টি দফা ছিল যেগুলো হচ্ছে –

1. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ না নেওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুত করে তাদের স্থানে ভারতীয় কর্মকর্তাদের নিয়োগ করা।

2. বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গঠন না করা।

3. রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি আধাসামরিক বাহিনী গঠন করা।

4. নভেম্বর ১৯৭২ সাল থেকে বাংলাদেশে ভারতীয় সেনাবাহিনী অবস্থান করবে এবং প্রতি বছরের নভেম্বরে দেশের পরিস্থিতি তারা পর্যবেক্ষণ করবে।

5. বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তের তিন মাইল জুড়ে নিয়ন্ত্রণহীন মুক্ত বাজার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাণিজ্যিক সমঝোতা বাস্তবায়ন করা এবং বছর শেষে নিকেশ করে পাওনা অর্থ ভারত সরকার কর্তৃক পাউন্ড স্টার্লিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশকে পরিশোধ করা।

6. বাংলাদেশের বৈদেশিক ব্যাপারে ভারতের নির্দেশ অনুসরণ করা।

7. বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বের দায়িত্ব শুধু ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধানের হাতে ন্যস্ত করা।


যে কেউ এ চুক্তির দিকে তাকালে এক নজরেই বুঝে যাবে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার আগে থেকেই ভারত এ ব্যাপারে রাজি ছিলোনা যে, বাংলাদেশের একটি নিজস্ব সেনাবাহিনী থাকবে। এ নিয়ে আমরা ভারতের আগ্রাসন সিরিজে বিস্তর আলোচনা করেছি। আজ আমরা এটুকুই বলব, বাংলদেশের নিজস্ব সেনাবাহিনী থাকবে, শুরু থেকেই এটি ছিল ভারতের প্রবল আপত্তির জায়গা। 


- এটি মাথায় নিয়েই চলুন আমরা সামনে আগাই।

.

বিডিআর ম্যাসাকার বোঝার জন্য আমাদের কনটেক্সট জানা প্রয়োজন। ২০০১ সালে আগ্রাসী ভারতীয় বিএসএফ বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশ করে। ফলাফল হিসেবে ভারত স্মরণ কালের অন্যতম শাস্তি পায় বিডিআর এর হাতে।

কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়, আরো অনেকে হতাহত, এমনকি বিডিআর বিএসএফ এর কিছু চৌকি দখল নিয়ে নেয়, কিছু গুঁড়িয়ে দেয়।[2] ভারত এ লজ্জাজনক পরাজয় কোন ভাবেই মেনে  নিতে পারেনি!

.

২০০৯ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসে ভারতের ক্যান্ডিডেট শেখ হাসিনা। হাসিনা এসেই ভারতের মনোরঞ্জনের জন্য নিজের দেশের সেনাবাহিনীর  বিরুদ্ধে কিলিং মিশনে নামে। পরিকল্পিত ভাবে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয় ৫৭ জন সেনা অফিসারকে! একসাথে এত সামরিক অফিসার নিহত হবার ঘটনা ইতিহাসে বিরল! 

.

ভারত-আওয়ামীলীগের যুগপৎ ষড়যন্ত্রে সেনাবাহিনীর অফিসারদের হত্যা করার মিশন ২০০৯ সালে বাস্তবায়ন করা হলেও প্ল্যানিং চলছিল হাসিনা ক্ষমতায় আসার বেশ আগে থেকেই। ৭৫ এ আর্মি বিদ্রোহে পরিবার হারানোর ক্ষোভ ও ২০০১ সালের সীমান্তে তৎকালীন বিডিআরের হাতে চরম মার খাওয়ার লাঞ্ছনাই সেনাবাহিনী নিধনে হাসিনা-ভারতকে এক সুতোয় নিয়ে এসেছিল।

.

কোন অফিসারদের হত্যা করা হবে তা আগে থেকেই লিস্টেড ছিল। তাই মিশনে থাকা লিস্টেড অফিসারদের তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরিয়ে আনে হাসিনা সরকার।[3] পোস্টিং হয় পিলখানায়। আওয়ামীলীগ বেশ আঁটসাঁট ভাবেই তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল। ঘটনার বেশ আগে থেকেই বিদ্রোহীদের সাথে আওয়ামী নেতাদের একাধিক গোপন বৈঠক সম্পন্ন হয়েছিল। দুবাই থেকে কিলার গ্রুপ ভাড়া করে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের হোটেল ইম্পেরিয়ালে আশ্রয় প্রদান করা হয়েছিল। কিলার গ্রুপ 'খেলোয়াড়' ও 'রোগী' ছদ্মবেশে পিলখানায় প্রবেশ করে।[4]

পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড শেষে তাদেরকে আবার এয়ারপোর্টে সেফ এক্সিট দেয়া হয়। পেমেন্ট সম্পন্ন হয়েছিল দুবাইতে। আর এই টোটাল প্রসেস সম্পন্ন করে মাস্টারমাইন্ড হাসিনা, তার বোন রেহানা, হাসিনাপুত্র জয়সহ আওয়ামীলীগের  প্রথম সারির রাজনীতিকরা।[5]

.

শুধু এটুকুই নয়, সাহারা খাতুন কর্তৃক আক্রমণের শিকার অফিসারদের অসহযোগিতা, অনেকটা 'দাঁড়িয়ে' থেকে তাদের নিহত হতে দেখা,[6] ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বিদ্রোহী সেজে অস্ত্র ধারণ, বিদ্রোহীদের মধ্য থেকে জয় বাংলা স্লোগান কিসের আলামত স্পষ্ট করে সেটা কারো বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।[7]

.

পিলখানা গণহত্যার তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী এ গণহত্যায় আওয়ামী লীগ ছাড়াও ভারত সরাসরি জড়িত ছিল। প্ল্যান সফলভাবে এক্সিকিউটেড না হলে হাসিনাকে নিরাপদে বের করে নিতে আগে থেকেই কালাইকুন্ডা বিমান ঘাঁটিতে এক হাজার প্যারাট্রুপার মোতায়েন করেছিল ভারত। সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীগুলোকে বিদ্রোহীদের উপর একশন থেকে বিরত রাখতে বিমানবন্দর দখল করার হুমকি দিয়েছিল ভারত।[8]

.

পরবর্তীতে সামর্থ্য থাকার পরেও লিস্টেড অফিসারদের হত্যা মিশন সম্পন্ন হওয়ার আগ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর অসহযোগিতা, দরবার হলের কাছে থেকেও র্যাবের নিষ্ক্রিয়তা,  বিদ্রোহীদের হিন্দি ভাষায় কথা বলা,[9] বাংলাদেশের কোন মিডিয়া বিদ্রোহের কথা প্রচার হওয়ার আগেই ভারতের এনডিটিভিতে ১৫ জন অফিসার নিহত হওয়ার খবর প্রচার হওয়াটা পিলখানা হত্যাকান্ডে ভারতের জড়িত থাকার বিষয় আরো জোরালো করেছে।[10]

.

পরবর্তী সময়ে, নিহত প্রত্যেক অফিসারের পরিবারকে একপ্রকার জিম্মি করে রেখেছিল আওয়ামী সরকার। হাসিনার পতনের পূর্ব পর্যন্ত প্রতিটি পরিবারের উপর চলত মোবাইল ট্র্যাকিং ও ডিজিএফআইয়ের নজরদারি।[11] পিলখানা হত্যাকান্ড নিয়ে কেউ কথা বললে তাকে বানিয়ে দেয়া হয়েছে জঙ্গি কিংবা করা হয়েছে চাকরিচ্যুত![12] মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে না চাওয়ায় কাউকে জেল খাটতে হয়েছে বছরের পর বছর। কাউকে বা হত্যা করা হয়েছে 'পুলিশ হেফাজতে'।[13]

.

বিডিআর বিদ্রোহ নাম দিয়ে ৫৭ জন দক্ষ সেনা অফিসারদের হত্যা করার মধ্য দিয়ে দেশের মিলিটারি স্পাইনে কঠিন আঘাত হানা হয়েছিল। দেশের রাজধানীর বুকে এমন স্যাবোটাজ ঘটিয়ে ভারত বেশ নবাবি মেজাজেই ছিল!

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্ট্রংগেস্ট ইন্সটিটিউশন সেনাবাহিনীকে মারাত্মক আঘাত করা হয়, নষ্ট করা দেওয়া হয় তাদের মোরাল, ব্রাদারহুড এবং মিলিটারি ডিগনিটি। তারা হারিয়ে ফেলে ভারতীয় আগ্রাসন মোকাবেলার শক্তি এবং মানসিকতা। ধীরে ধীরে ভারতকেই মোড়ল হিসেবে মেনে নিতে থাকে; ভারতীয় আর্মির সাথে ২০১৭ সালে সম্পন্ন করে সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি।[14] বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রায় পুরোপুরি চলে যায় ইন্ডিয়ান রাডারের আওতায়। এভাবেই ভারত তার অন্যতম স্ট্র্যাটেজিক থ্রেট ‘সেনাবাহিনীকে’ নিউট্রালাইজ করে বা কমপক্ষে থ্রেট মিনিমাইজ করতে সফল হয়।

.

অপরদিকে পিলখানা ম্যাসাকার নামক এসিড টেস্টে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়ে ভারতের একক আস্থাভাজনে পরিণত হয় খুনি হাসিনা। আমরা দেখব, খুব শীঘ্রই হাসিনা তার এই অভিজ্ঞতা আরেক রক্তাক্ত ম্যাসাকারে বাজি ধরতে যাচ্ছে!

.

২০১৩ সালে, হাসিনা ভারতের আরেক পথের কাঁটা ইসলামপন্থীদের দমনে পূর্ণশক্তি প্রয়োগ করে। এরই প্রেক্ষিতে ঘটায় শাপলা গণহত্যা।  ইসলামপন্থীদের দ্বিতীয় সারির নাগরিক বানিয়ে ফেলা হয়, জঙ্গি নাটক মঞ্চস্থ করে হত্যা করা হয় নিরীহ মুসলিমদের। আয়নাঘরে বন্দি করা হয় শত শত নিরীহ নাগরিকদের। পিলখানা পরবর্তী হাসিনার প্রতিটা অপরাধের মোটিভেশন এসেছিল 'পিলখানা সফলতা' থেকেই। শাপলা, গুম, খুন, আয়নাঘরের এই ধারাবাহিকতায় হাসিনা সংঘটিত করেছে জুলাই গণহত্যা।

.

হাসিনা পালিয়েছে। কিন্তু শেষ হয়নি পিলখানায় নিহত পরিবারগুলোর আহাজারি। বিচারের নামে প্রহসন বন্ধ হয়নি এখনও![15] তদন্তের নামে ইচ্ছাকৃত বিলম্ব। 


জুলুমের সিস্টেমে ইনসাফ কেউ এনে দেয়না, আদায় করে নিতে হয়। তাই নিহতদের পরিবারসহ পুরো সেনাবাহিনিকেই ইন্সটিটিউশন হিসেবে এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে। আওয়াজ তুলতে হবে যেন প্রতিটা পরিবার তাদের  ন্যায্য বিচার পায়। সরকারেরও উচিত হবে বিচারের নামে যেন কোন আইওয়াশ না হয়। 

.

আমাদের দেশের সেনাবাহিনী ও জনগণকে বুঝতে হবে যে ভারত আমাদের প্রধান আগ্রাসী শত্রু! নিজেদেরকে ডিফেন্ড করার শক্তি নিজেদেরকেই অর্জন করতে হবে। ভারতের অলআউট হেজেমনিকে রুখতে হলে সেনাবাহিনীকে অবশ্যই তার অগ্রণী এবং সাহসী ভূমিকা পালন করতে হবে। সেনাবাহিনীকেও কী এটি শিখিয়ে দিতে হবে যে, কাকে বলে ডিগনিটি! কাকে বলে ব্রাদারহুড! Remember, you left your men behind once! You let your men die! You let your ‘brother in arms’ die!

.

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবশ্যই পিলখানা ম্যাসাকারের প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা ষড়যন্ত্র জনসম্মুখে উন্মোচন করতে হবে এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে পিলখানার ঘটনায় জড়িয়ে থাকা প্রতিটি অপরাধী বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আর এটা করতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি কলংকময় অধ্যায় হয়েই থেকে যাবে পিলখানা গণহত্যা। 


নিশ্চয়ই মৃতরা ফিরে আসেনা, আমরা ফিরিয়ে আনতে পারবোনা। তবে যা আমরা পারবো তা হচ্ছে – আগ্রাসী ভারতের চোখের সামনে বসে, তার নাকের ডগায় এই ম্যাসাকারের সাথে জড়িত প্রত্যেকের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে। 

.

আমরা সেদিন ভারতের চোখে চোখ রেখে বলবো,- 

You must not do the same mistake again unless you think twice, thrice and probably 24x7!


.

* রেফারেন্স 


[1] https://tinyurl.com/ymueuf4t

[2] https://www.bbc.com/bengali/news-56776141

[3] https://www.youtube.com/watch?v=O4FyNm3kse4&list=PLLVtoYm_zWRivgfqfFs858Ui2OfIZbPwQ&index=18

[4] https://www.jugantor.com/national/902542

[5] https://www.youtube.com/watch?v=U_xSV80kv2o&list=PLLVtoYm_zWRivgfqfFs858Ui2OfIZbPwQ&index=9

    https://dailyinqilab.com/national/article/684024

[6] https://www.dainikamadershomoy.com/details/0192cf0dbbb813

[7] https://bangla.bdnews24.com/bangladesh/3506091fed29

    https://www.youtube.com/watch?v=wJZPeq8xitI

[8] https:/www.dailyjanakantha.com/national/news/756639

[9] https://www.youtube.com/watch?v=JdkH2xekRzI&list=PLLVtoYm_zWRivgfqfFs858Ui2OfIZbPwQ&index=26

[10] https://www.youtube.com/watch?v=wJZPeq8xitI

     https://m.somewhereinblog.net/mobile/blog/furbo/29890097

[11] https://www.youtube.com/watch?v=o4PZvotJM58&list=PLLVtoYm_zWRivgfqfFs858Ui2OfIZbPwQ&index=24

[12] https://www.youtube.com/watch?v=wQtqpeRxd08&list=PLLVtoYm_zWRivgfqfFs858Ui2OfIZbPwQ&index=2

[13] https://www.banglanews24.com/national/news/bd/1468390.details

     

https://www.tbsnews.net/bangla/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6/news-details-248111

[14]https://www.bbc.com/bengali/news-39291351

[15] https://mzamin.com/news.php?news=142737

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Cookie Consent
We serve cookies on this site to analyze traffic, remember your preferences, and optimize your experience.
Oops!
It seems there is something wrong with your internet connection. Please connect to the internet and start browsing again.
AdBlock Detected!
We have detected that you are using adblocking plugin in your browser.
The revenue we earn by the advertisements is used to manage this website, we request you to whitelist our website in your adblocking plugin.
Site is Blocked
Sorry! This site is not available in your country.