>
আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার করুন আমাদের সাথে।
![]() |
| মাওলানা আইনুল হক কাসেমী |
দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই গণমাধ্যম ও ভারতীয় মুখপাত্র প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখির অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ওই শিক্ষকের নাম মাওলানা আইনুল হক কাসেমী। অভিযোগ, কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গতকাল রাতে মাদ্রাসায় ক্লাস নিচ্ছিলেন মাওলানা আইনুল হক কাসেমী। এ সময় সাদা পোশাকে একদল লোক তাকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ক্লাস থেকে তুলে নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তাকে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দেখানো হয়নি। এরপর দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
আজ(মঙ্গলবার) দুপুরে হঠাৎ করেই মাওলানা কাসেমীকে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার অফিসে হামলার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে তার সহকর্মী ও অনুসারীদের দাবি, তিনি কখনোই কোনো হামলায় জড়িত ছিলেন না। মূলত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই দুই পত্রিকায় হামলা হলে তিনি একজনের ভিডিও পোস্ট শেযার করার কারণেই তাকে আক্রোশমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্টজন ও ইসলামপন্থী আলোচকরা। তাদের মতে, ভিন্নমত দমনের জন্য পুরনো কায়দায় রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে বিজ্ঞজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ভারতীয় মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের হাত ধরেই দেশে আবারও ফিরে এসেছে সেই আতঙ্কের ‘সাদা পোশাকধারী গুম বাহিনী’। সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নামে ভিন্নমতকে এভাবে টুঁটি চেপে ধরা স্বৈরাচারী আচরণেরই নামান্তর।"
তারা আরও অভিযোগ করেন, "হাসিনা সরকারের মতো বর্তমান সময়েও ইসলামপন্থীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও নির্যাতন করার নীল নকশা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অনতিবিলম্বে মাওলানা কাসেমীর নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তারা।"
এদিকে, মাওলানা কাসেমীর গ্রেপ্তারের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাধারণ নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলছেন—লেখালেখির জবাব কি তবে হাতকড়া আর মিথ্যা মামলা?
উল্লেখ, গত ১৮ ডিসেম্বর ২৫ইং তারিখে শহিদ ওসমান হাদীর মৃত্যুর সংবাদ আসলে সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ভারতীয় মুখপাত্র এই দুই পত্রিকা অফিসে হামলা চালায়।