>
আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার করুন আমাদের সাথে।
![]() |
| বিপ্লবীর মৃত্যু ঘরের মধ্যে হতে পারে না, তার মৃত্যু হবে রাজপথে—গ্লোরির মৃত্যু: ওসমান হাদি |
মাত্র তিন দিন আগের কথা। গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) এক সাক্ষাৎকারে নিজের মৃত্যুভাবনা নিয়ে কথা বলছিলেন শরিফ ওসমান হাদি। দৃপ্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, “কোনো রাজনীতিবিদের মৃত্যু তার ঘরের ভেতর হতে পারে না। যিনি বিপ্লবী, তার মৃত্যু হবে রাজপথে—একটা গ্লোরির মৃত্যু।” নিয়তির কি নির্মম পরিহাস, সেই বক্তব্যের ৭২ ঘণ্টা না পেরোতেই শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) প্রকাশ্য রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়ে এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদির ওপর এই হামলা হয় রাজধানীর বিজয়নগরে।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় হাদির ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তিনি রিকশায় করে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। গুলিটি তার বাম কানের নিচে বিদ্ধ হয়।
গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) নেওয়া হয়। ঢামেকের আবাসিক সার্জন ডা. মোস্তাক আহমেদ জানান, হাদিকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। সিপিআর দেয়ার পর তার রক্তচাপ কিছুটা স্থিতিশীল হলেও মাথার ভেতরে গুলি আটকে থাকায় শঙ্কা কাটেনি।
‘হাসতে হাসতে শহীদ হতে চাই’
মাত্র কয়েকদিন আগেই এক সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে হাদি নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে বলেছিলেন, “হায়াত-মওতের মালিক আল্লাহ। ন্যূনতম সিকিউরিটি নিয়ে চলা সুন্নাহ। মা কান্নাকাটি করেন, কিন্তু আমি বলেছি—আমরা একটা লড়াইয়ে নেমেছি। কোনো রাজনীতিবিদের বাসায় মৃত্যু হতে পারে না। এটা কোনো ভালো মৃত্যু না।”
তিনি আরও বলেছিলেন:
“আমি ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখি—অন্যায়ের বিরুদ্ধে তুমুল মিছিলে আমি আছি। কোনো একটা বুলেট এসে আমার বুকটা বিদ্ধ করে দিয়েছে এবং আমি হাসতে হাসতে শহীদ হয়ে গেছি। ইনসাফের হাসি নিয়ে আমি আল্লাহর কাছে পৌঁছাতে চাই।”
৫০ বছর নিষ্ক্রিয় বেঁচে থাকার চেয়ে ৫ বছর বেঁচে আগামী ৫০ বছরের ‘ইমপ্যাক্ট’ তৈরি করাকেই সাফল্য মনে করতেন এই তরুণ রাজনীতিক। এখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সেই লড়াইটাই লড়ছেন শরিফ ওসমান হাদি।
তথ্যসূত্র: সময় সংবাদ