>
আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার করুন আমাদের সাথে।
![]() |
| ~ সমসাময়িক রাজনীতি - ৫ ~ জানাপের রাজনৈতিক আদর্শ তবে কী? |
-
নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে “জাতীয় নাগরিক পার্টি”র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “বাংলাদেশে ভারতকেন্দ্রিক বা পাকিস্তানপন্থী কোনো রাজনীতির ঠাঁই হবে না”
.
নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য হঠাৎ বলা কোনো কথা নয় যা পূ্র্ব পরিকল্পনা ছাড়া বলা হয়েছে; বরং এটি পূর্ব পরিকল্পিত একটি বার্তা যেখানে সম্ভাব্য কয়েকটি বিষয়ের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে –
• হতে পারে ভারত কেন্দ্রিক বা ভারতপন্থী বলতে ওই রাজনীতিকে বোঝানো হয়েছে যা ছিল আওয়ামী অস্তিত্বের মূল। যারা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পদে বসে এখনো আওয়ামীলীগের পুনর্বাসনের চেষ্টা বা পরিকল্পনা রাখছে এবং এমন ব্যক্তি বা দল যারা ভারতের সাথে আঁতাত করে ক্ষমতায় আসতে চায়—আহ্বায়ক নাহিদের বক্তব্য তাদের জন্যও একটি বার্তা হতে পারে।
• পাকিস্থানপন্থী রাজনীতি বলতে -
o হতে পারে পাকিস্থানের সাথে অনুরূপ সম্পর্কে তারা জড়াবে না যেমন সম্পর্ক ভারতের সাথে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আদর্শের ছিল।
o “পাকিস্থানপন্থী রাজনীতি” বলার মাধ্যমে মূলত কৌশলে গণতন্ত্রপন্থী সমস্ত ইসলামী দলের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, হতে পারে যারা পাকিস্তান-চায়না বলয়ে থাকতে চায় প্রচ্ছন্নভাবে এমন ইসলামপন্থীদের নাকচ করা হয়েছে।
.
এখন প্রশ্ন হলো, যেহেতু ভারত বা পাকিস্থানপন্থী কোনো রাজনীতিই রাখা হবে না তাহলে নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক আদর্শ হবে কে? জুলাই অভ্যূত্থান থেকে শুরু করে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে আমেরিকার গোপন সম্পৃক্ততা এবং এ্যাডভোকেসি থেকেই এই প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হয়ে ওঠতে শুরু করেছে। সার্বিক দিক বিবেচনায় আমাদের ধারনা হলো, অভ্যূত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন যে রাজনৈতিক আদর্শের ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে তা আমেরিকাপন্থী হবার সম্ভাবনাই প্রবল। যেখানে আমেরিকা যা কিছুই চাপিয়ে দেবে তা মেনে চলতে নবীন ছাত্রনেতারা বাধ্য থাকবে। কেন আমরা এমন অনুমান করছি? চলুন তা বোঝার জন্য কিছু তথ্য নিয়ে সামান্য চিন্তা-ভাবনা করা যাক।
.
ইন্ডিয়া কিংবা পাকিস্তানপন্থী রাজনীতি নয়, তাহলে প্রকাশ্যে সমকামী এজেন্ডা নিয়ে কাজ করা সরোস ফাউন্ডেশনের সাথে ফটো সেশন থেকে আমরা কি বুঝে নিব? দেশ এবং জাতি কি বুঝে নিবে? বাংলাদেশে কোন আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য সরোস ফাউন্ডেশনের এ্যালেক্স সরোসের সাথে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনুসের বৈঠক করতে হলো? কেন এই ফাউন্ডেশনের সাথে বিগত কয়েক মাস ধরে “জাতীয় নাগরিক পার্টি”র নেতাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ গড়ে ওঠেছে?
.
বাংলাদেশকে নিয়ে পশ্চিমাদের সমকামী এজেন্ডার বিষয়টি মেধাবী ছাত্রনেতাদের কাছে কি অজানা ছিল? অবশ্যই না। তবে আমরা এমনটিও মনে করি না যে, হাসিনার পতনে সরাসরি অবদান রাখা এই যুবকরা সমকামী এজেন্ডা সমর্থন করে। কিন্তু এটা তো স্পষ্ট যে তারা এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে জানার পরেও নিশ্চুপ থাকছে। তারা তাদের নতজানু মনোভাবের কারণে বিদেশী শক্তিগুলোর চাপের কাছে নতি স্বীকার করে নিচ্ছে। বিষয়গুলোর ভয়াবহতা জানার পরও তারা সমাজ বিধ্বংসী পশ্চিমা এজেন্ডার প্রতিরোধ করতে পারবে না বলেই মনে হয়। এর একটি কারণ হতে পারে, তারা নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত, আমেরিকাকে এবং বিকৃতির প্রচারক বিভিন্ন মার্কিন সংস্থাকে নারাজ করাকে তারা নিজদের নিরাপত্তা ও দলীয় রাজনীতিতে সাফল্য অর্জনের জন্য প্রতিবন্ধক ভাবছে।
.
তারা সবাই এটা জানে যে, কোনোভাবে যদি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আদর্শের পুনর্বাসন সম্ভব হয় তাহলে তাদেরকে নি:শ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে। সেটা হোক মাদার অফ ডেভিল শেখ হাসিনার সরাসরি পুনর্বাসনের মাধ্যমে কিংবা অন্য কোনো গণতান্ত্রিক দলের মাধ্যমে। হাসিনার পতন পরবর্তী সময়েও এদেশে আওয়ামী আদর্শকে নিশ্চিহ্ন করা যে কতোটা জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া হতে পারে তা হয়তো নবীন ছাত্রনেতাদের পক্ষে শুরুতেই অনুধাবন করার সুযোগ ছিল না। কিন্তু যখন তারা অনুধাবন করতে শুরু করে তখন আর পেছনে ফেরারও সুযোগ ছিল না। ফলে নিজেদেরকে নিরাপদ রাখতে কোনো একটি রাজনৈতিক আদর্শকে পুঁজি করতে কিংবা মিত্রতা গড়ে তুলতে তারা অনুপ্রাণিত হয়েছে। আর এই Ground context এর উপর ভিত্তি করেই আমেরিকা তার পরিকল্পনা পাকাপোক্তো করেছে। এ ক্ষেত্রে এ দেশের মুসলিম জনগণকে অবমূল্যায়ন করে আমেরিকাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া, তাদের চাপিয়ে দেওয়া আদর্শের বিরুদ্ধে না দাঁড়িয়ে তাদেরকে খুশি রাখার পদ্ধতিকে নিজেদের রক্ষাকবচ মনে করা অবশ্যই নৈতিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে মারাত্মক ভুল। এটি আগের ভুলেরই পুনারবৃত্তি!
.
জানা দরকার এই প্রেক্ষাপট তৈরি করার জন্য অ্যামেরিকা এখানে কীভাবে কাজ করলো? মূলত ছাত্রনেতাদের উপর দুইটি পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে, যার একটি হলো কৌশল আর অপরটি হলো ফাঁদ।
.
কৌশল:
Machiavellian Tactics বা Machiavellianism: এই ধারণাটি ইতালীয় রাজনৈতিক চিন্তাবিদ নিকোলো ম্যাকিয়াভেলির লেখা থেকে এসেছে এবং এটি এমন রাজনৈতিক কৌশলগুলোর কথা বলে যেখানে লোকদের নিয়ন্ত্রণ বা বাধ্যগত করতে তাদের দুর্বলতাকে কাজে লাগানো হয়, যাতে তারা পরিকল্পনাকারীর পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতে বাধ্য হয়।
.
অভ্যূত্থানে ছাত্রনেতাদের প্রতি আমেরিকা কিংবা আমেরিকাপন্থী বিভিন্ন সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে যত ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করা হয়েছিলো সেগুলো ছিল মূলত Machiavellian Tactics এর অধীনে কিছু রাজনৈতিক কৌশল। যেখানে ছাত্রনেতাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টিকে দুর্বলতা হিসেবে কাজে লাগানো হয়েছে।
.
ফাঁদ:
Political Entrapment and Blackmail: এটি মূলত রাজনৈতিক ফাঁদে ফেলা বা ব্ল্যাকমেইল করার পরিস্থিতি, যেখানে একজন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়া হয়, যা থেকে সে বের হতে পারে না এবং তাকে বাধ্য কিংবা প্ররোচিত করা হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বা কাজ করতে যা তার বিরুদ্ধে যেতে পারে।
.
এই ফাঁদের কারণেই মূলত জানাপে সমকামী মুনতাসির মামুনের পদ সংযুক্তি আটকাতে পারেনি ছাত্রনেতারা। এটি করা হয়েছে গ্রাউন্ড রিয়েকশন পর্যবেক্ষণ করার জন্য। ছাত্রনেতারা সমকামী মুনতাসিরের গে ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে জানতো না এমন বক্তব্য কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়। কারণ, একটি রাজনৈতিক দলে কাউকে পদ দেওয়া হবে আর তার ব্যাপারে দলের মূল ব্যক্তিরা বিস্তারিত জানবে না এটা হতেই পারে না। এখানে মূলত social engineering এর একটি সহজ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আমেরিকার পরবর্তী সমকামী এজেন্ডার ব্যাপারে একটি নতুন social experiment করা হলো।
.
মুনতাসিরের পর জাতীয় নাগরিক পার্টির পদপ্রাপ্ত আরো একজন সংগঠক শওকত আলীর বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে সমকামীতা প্রচারের প্রমাণ সামনে আসতে শুরু করেছে। এসব কিছু থেকে বোঝা যায়, এই দলটির নেতারা সমকামীতার মত জঘণ্য বিকৃতির বিরুদ্ধে ন্যুনতম সাহসী অবস্থান নিতেও রাজি নয়। এমনকি, প্রকাশ্য সমকামিতার প্রচারকদেরকে দলীয় পদ-পদবী দেয়ার যে দুঃসাহস আর কোনো সেক্যুলার দল দেখায়নি, তারা সেটিও করে বসেছে। অথচ এই জমিনের সমস্ত মুসলিম তো বটেই, অমুসলিমরাও ব্যাপকভাবে সমকামীতার বিরুদ্ধে। আবু সাইদের মত সমকামিতার বিরুদ্ধে লেখালেখি করা হাজার হাজার তরুণের আত্মত্যাগই জুলাইয়ে আমাদেরকে বিজয় এনে দিয়েছে। এখন আবু সাইদদের কুরবানীকে ভুলে গিয়ে জানাপার নেতারা সরোস ফাউন্ডেশনের মত সংস্থাগুলোর মিত্রতা ও সমর্থনকেই যদি নিজেদের রক্ষাকবচ মনে করে তাহলে তারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনবে।
.
নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত আমেরিকাপন্থী রাজনৈতিক আদর্শের উপর থাকার ইঙ্গিত করেছে এমনটাই প্রতীয়মান হচ্ছে। আর এটাও স্পষ্ট যে, অভ্যূত্থান পরবর্তী বাংলাদেশকে নিয়ে আমেরিকার ড্যামোক্রেটিক ব্লকের বিশেষ একটি এজেন্ডা হলো এই ভূমিতে সমকামীতাকে সামাজিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠিত করা। এই বিকৃত রুচির এজেন্ডার মাধ্যমে তারা হাজী শরীয়তউল্লাহ, শাহ ওয়ালিউল্লাহ, তিতুমীরের আদর্শ লালনকারী প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চায়। ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনাকে মিটিয়ে দিতে চায়। তাই প্রশ্ন থেকে যায়, নবীন ছাত্রনেতারা কি তবে এই বিকৃত রাজনৈতিক আদর্শের উপরই কাজ করবে যেটি সমকামীতাকে বৈধতা দেয়ার মাধ্যমে শাহজালালের ভূমিকে কলুষিত করতে চায়?
.......