>
আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার করুন আমাদের সাথে।
![]() |
| কুরআন পোড়ানো পশ্চিমের মিডিয়া ক্রুসেড! |
~ সমসাময়িক রাজনীতি - ৪ ~
কুরআন পোড়ানোঃ পশ্চিমের মিডিয়া ক্রুসেড!
---
সাম্প্রতিক সময়ে সুইডেনে কুরআন পোড়ানো এক ব্যাক্তি নিহত হয়েছে এবং এটি নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে।
বর্তমান বিশ্বে ইসলামোফোবিয়া কেবল ব্যক্তিগত বিদ্বেষ নয়, বরং একটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দৃশ্যায়ন করা ইসলাম বিদ্বেষ! ইসলাম এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে পশ্চিমের বিদ্বেষের অন্যতম একটি বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে আমাদের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ কুরআন আক্রমণ করা।
.
সুইডেন, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডসসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কুরআন পোড়ানোর ঘটনা নিয়মিতভাবে ঘটছে। তারা দাবী করে এমন জঘন্য কাজগুলো হচ্ছে আসলে "ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন" যদিও বাস্তবতা হচ্ছে তারা ইসলাম এবং মুসলিমদের ক্রমাগত আক্রমন করার জন্যই এসব জঘন্য উস্কানিমূলক কাজ প্রশ্রয় দিয়ে থাকে। পশ্চিমা বিশ্ব আজও ইসলামকে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখে এবং এক প্রকার মিডিয়া ক্রুসেডের মাধ্যমে ইসলামকে দমন করতে চায়।
◻️ পশ্চিমা বিশ্বের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড
লক্ষ্য করুন, পশ্চিমারা যখন কুরআন পোড়ানোকে "ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন" বলে সমর্থন দেয়, তখন প্রশ্ন ওঠে, তারা কেন বাইবেল বা তোরাহ পোড়ানোর অনুমতি দেয় না? আজ পর্যন্ত যারা কুরআন পুড়িয়েছে তাদের অধিকাংশই নিজেদেরকে কথিত নাস্তিক হিসেবে পরিচয় দেয়, তারা বলে তাদের কোন ধর্ম নেই এই বলে তারা কুরআন পোড়ায় কিন্তু কখনই বাইবেল কিন্তু তোরাহ পোড়ানোর মত ঘটনা আমরা দেখিনা! কেন? মুসলিম হিসেবে আমরা কোন ধর্মের ধর্ম গ্রন্থ পুড়িয়ে দেয়া সমর্থন করিনা যদিও এও সত্য যে, বাইবেল, তোরাহ এগুলো কোনটিই এখন আর অবিকৃত অবস্থায় নেই।
কুরআন পোড়ানোর ঘটনায় সবচেয়ে সক্রিয় পশ্চিমা দেশগুলো হচ্ছে, -
▪️ সুইডেনঃ
২০২৩ সালে স্টকহোমে রাসমুস পালুদান এবং সালওয়ান মোমিকা একাধিকবার প্রকাশ্যে কুরআন পোড়ায়। সুইডিশ সরকার এ ধরনের কাজকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হিসেবে অনুমোদন দেয়।
▪️ ডেনমার্কঃ
২০২৩ সালে কট্টর ডানপন্থী গোষ্ঠী "Danske Patrioter" ডেনমার্কে কুরআন পোড়ানোর বেশ কয়েকটি কর্মসূচি গ্রহণ করে। ডেনমার্ক সরকার শুরুতে এটি অনুমোদন দিলেও, মুসলিম বিশ্বের প্রতিক্রিয়ার পর কিছুটা কথিত 'কঠোর' অবস্থান নেয়।
▪️ নেদারল্যান্ডসঃ
২০২৩ সালে কট্টর ডানপন্থী পেগিডা (PEGIDA) দলের সদস্যরা কুরআন ছিঁড়ে অবমাননা করে। ডাচ সরকার এ ব্যাপারে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয়নি।
▪️ ফ্রান্সঃ
২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের পক্ষে কথা বলে। এটি থেকে উতসাহিত হয়ে অনেকে রাসুল সাঃ অবমাননা সহ কুরআন অবমাননার দুঃসাহস পায়। ফ্রান্সে কট্টর ইসলামবিদ্বেষী উগ্র দলগুলো নিয়মিতই কুরআন অবমাননামূলক কাজ করে থাকে। তাদের ভাষায় এগুলো ফ্রিডোম অফ এক্সপ্রেশনের ইভেন্টস!
▪️ নরওয়েঃ
২০১৯ সালে "Stop Islamization of Norway" (SIAN) গোষ্ঠী কুরআন পোড়ানোর ঘটনা ঘটায়। ২০২৩ সালে নরওয়েতে আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটে।
.
যখনই কোনো উগ্র ডানপন্থী ব্যক্তি কুরআন পোড়ায়, তখন পশ্চিমা মিডিয়া সেটাকে "Freedom of expression" বলে চালিয়ে দেয়। কিন্তু যখন কোনো মুসলিম ব্যক্তি এর প্রতিবাদে কথা বলে, তখন তাকে "Extremist" চরমপন্থী বলে আখ্যা দেওয়া হয়। ফিলিস্তিনের শিশুদের হত্যা করা হলে সেটাকে "ইসরায়েলের আত্মরক্ষা" বলা হয়, অপরদিকে ফিলিস্তিনিরা প্রতিরোধ করলে সেটাকে "সন্ত্রাসবাদ" বলে প্রচার করা হয়।
পশ্চিমের এই নির্লজ্জ ডাবল স্ট্যান্ডার্ড কেবল মাত্র তাদের ইসলাম বিদ্বেষেরই বহিঃপ্রকাশ!
[Labelbox label="India" limit="3"]
◻️ মুসলিম দেশগুলোর নতজানু মনোভাব ও কর্পোরেট গোলামি
মনে করুন আজ যদি কোন মুসলিম এ ধরণের কোন উগ্র, বিদ্বেষমূলক কোন কাজ করত তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সবার আগে ব্যাবস্থা নিতে তৎপর হত কথিত মুসলিম দেশগুলোর প্রশাসন ব্যাবস্থা। অপরদিকে যখন আমাদের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ অবমাননা করা হয় তখন মুসলিম দেশগুলোর ভূমিকা তেমন উল্লেখযোগ্য কিছু নয়। সাধারণ মুসলিমরা হয়ত রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেন, পণ্য বয়কট করেন এমন কিছু পদক্ষেপ নেয়া হয় কিন্তু মুসলিম দেশের পক্ষ থেকে, দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য তেমন কোন পদেক্ষেপ দেখতে পাওয়া যায়না। সর্বোচ্চ মুখের কিছু কথা বের হয়! "we condemn..."
এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, -
মুসলিম দেশগুলো আজ মূলত নিজেদের স্বার্থ, রাজত্ব, টিকিয়ে রাখার লোভে পশ্চিমের কর্পোরেট দাসত্বে বন্দি। এজন্য তারা ইসলামের উপরে এত জঘন্য আক্রমণের পরেও উল্লেখযোগ্য কোন পদক্ষেপ নিতে পারেনা।
.
যখন ফ্রান্সে নবী মুহাম্মাদ (সাঃ) এর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করা হয়, তখন কয়েকটি মুসলিম দেশ ফরাসি পণ্য বয়কটের ডাক দেয়। এতে তাদের উপরে কিছুটা অর্থনৈতিক প্রভাব পড়লেও দীর্ঘমেয়াদী কোনো পরিবর্তন আসেনি। কারণ মুসলিম দেশগুলো একতাবদ্ধভাবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বরং কোথাও কোথাও তো এমন ও হয়ছে যে বয়কটের পক্ষে মিছিল, মিটিং, আন্দোলন দমন করা হয়েছে। বয়কটের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে!
.
◻️ পশ্চিমের মিডিয়া ক্রুসেড
কুরআন পোড়ানোর মত এমন জঘন্য কাজ কখনই কোন সভ্য জাতি, রাষ্ট্র সমর্থন করতে পারে না। এটি এমনকি বেসিক সিভিল এথিকস এর সাথে সাংঘর্ষিক। কিন্তু পশ্চিমারা এমন জঘন্য কাজকে পুলিশ প্রোটেকশন দিয়ে মঞ্চায়ন করে। কেন?
▪️ কুরআন পোড়ানোর মত জঘন্য ঘটনা গুলো মিডিয়া দ্রুততম সময়ে লুফে নেয়
▪️ এমন ঘটনার মাধ্যমে মুসলিম কমিউনিটিতে খুব দ্রুততার সাথে উস্কানি ছড়িয়ে দেয়া যায়
▪️ যেহেতু এই ঘটনায় পশ্চিমারা মুসলিম কমিউনিটি অপেক্ষা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে এজন্য তারা এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা থেকে নিজেদের মত সুবিধা নিতে থাকে এবং সোশ্যাল এঞ্জিনিয়ারিং করতে থাকে।
▪️ যেমন - এমন ন্যাক্কারজনক কোন ঘটনায় মুসলিম কমিউনিটি অবশ্যই বসে থাকবেনা এবং তারা হয়ত কোনরকম আন্দোলন, বিক্ষোভ সমাবেশ করবে, করতে চাইবে তখনই তারা এই প্রতিক্রিয়াকে উগ্র, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করবে এবং এটিকেই তারা আবার মুসলিম এবং ইসলাম বিদ্বেষের জাস্টিফিকেশন হিসেবে ব্যাবহার করবে।
▪️ এটি একটি দুষ্ট চক্র যার ব্যাপারে পশ্চিম খুব ভালো ভাবেই জানে। তারা জানে কিভাবে কোন ফাইটার, কোন ট্যাঙ্ক ইউজ না করে, বিলিওন্স অফ ডলার ইউজ না করে কিভাবে মাত্র একটি কুরআন, একটি লাইটার এবং ১০/২০ পুলিশ প্রহরা দিয়ে সারা দুনিয়ার প্রায় ১.৮ বিলিওন মুসলিমের মনে আঘাত করা যায়। তারা এও জানে কিভাবে এই আঘাত বার বার করা যায় এবং মুসলিমরা উল্লেখযোগ্য ভাবে এর বিরুদ্ধে কোন অবস্থান নিতে সক্ষম নয়, এমন জঘন্য কাজের কোন রিটালিয়েশন সম্ভব নয়।
[Labelbox label="Reality Check BD" limit="3"]
▪️ এভাবে ক্রমাগত আঘাত করার মাধ্যমে তারা মুসলিম মানসিকতাকে পরাজিত মানসিকতায় পরিণত করতে চায়, যেখানে মুসলিম জনগোষ্ঠী এমন দেখে দেখে সহনশীল হয়ে ওঠে, যে তাদের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ কুরআন পোড়ানো হলেও এখানে আসলে তাদের তেমন কিছু করার নেই! আল্লাহ তাদের বিচার করবেন।
▪️ আর এই ক্রুসেডের সবচেয়ে ভাইটাল রোল প্লেয়ার হচ্ছে মিডিয়া!
Looks like they are having a good time with this so far, unless we think something different ..!
----
#সমসাময়িক_রাজনীতি