>
আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার করুন আমাদের সাথে।
![]() |
| ~ সমসাময়িক রাজনীতি - ১ ~ মনি শংকরের মন্তব্য উপেক্ষা করার মত নয়! |
.
সাম্প্রতিক সময়ে মনি শংকর আয়ার বলেছেন, "শেখ হাসিনা যতদিন ইচ্ছা ভারতেই থাকতে পারেন।" তার এই কথা বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সংস্কারের প্রেক্ষাপটে।
.
ভূরাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এই মন্তব্য নিছক কোন ব্যাক্তিগত মন্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বরং এটি একদিকে পলাতক শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের অব্যাহত সমর্থনের বার্তা, অন্যদিকে এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখার সুযোগ আছে। প্রচ্ছন্ন ভাবে হলেও।
.
এই মন্তব্য স্পষ্ট ভাবেই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি বিদ্রুপ প্রকাশের শামিল যেখানে পলাতক শেখ হাসিনা জুলাই ম্যাসাকারের প্রধান আসামী! একইসাথে, অন্তর্বর্তী সরকার এই মন্তব্যকে তাদের কর্তৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে, যা ভারতের সাথে সম্পর্ক জটিল করে তুলতে পারে।
.
ভারত, পলাতক শেখ হাসিনাকেই সব সময়ে ভারতীয় সংজ্ঞার, "আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা", "সন্ত্রাস দমন" এবং "সংযোগ প্রকল্পে" নির্ভরযোগ্য "অংশীদার" হিসেবে পাশে রাখতে চেয়েছে। বিগত আমলে, শেখ হাসিনা এ সকল ক্ষেত্রে ভারতকে সকল রকম সহযোগিতা দিয়েছে এমনকি দেশ এবং জনগণের ক্ষতি করে হলেও! শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবার পরে, বিগত দশক গুলোতে তার সমস্ত অপকর্ম, দুর্নীতি, দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয়া বিষয়গুলো সামনে এসেছে। যা কিছু দেশের জনগণের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল তা আজ আস্তে আস্তে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে। হাসিনা-ভারত অক্ষ কিভাবে বাংলাদেশকে ভারতের স্বার্থে ব্যাবহার করেছে এবং দেশের স্বার্থ নষ্ট করেছে তা প্রকাশ পাচ্ছে!
এমন অবস্থায় মনি শংকর আয়ারের, "শেখ হাসিনা যতদিন ইচ্ছা ভারতেই থাকতে পারেন" এই কথাকে উপেক্ষা করে থাকার কোন সুযোগ নেই।
.
মনি শংকরের এই কথা আসলে আরো একটি বিষয় স্পষ্ট করে তা হচ্ছে, ভারত কথিত ভাবে যা দাবী করে "ভারত বাংলাদেশের উন্নতিতে কৌশলগত বন্ধু" তা মোটেও সত্য নয় বরং ভারত বাংলাদেশকে কেবল মাত্র তার নিজের স্বার্থে ব্যাবহার করেছে, এবং ভবিষ্যতেও তাই করতে চায়। এটি আসলে ঐতিহাসিক ভাবে প্রমাণিত এবং বর্তমানে স্পষ্ট।
.
এমন অবস্থায়, দেশ এবং জনগণের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ভারতকে আমরা কিভাবে গ্রহণ করব, তাদের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া সময়ের দাবী!
----
#সমসাময়িক_রাজনীতি
#realitycheckbd