>
আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার করুন আমাদের সাথে।
![]() |
| ~ হেলিকপ্টার থেকে র্যাবের গুলি এবং কিছু পর্যবেক্ষন! ~ |
-
📍 গত ২ অক্টোবর, র্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুনিম ফেরদৌস জানিয়েছিলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে র্যাবের হেলিকপ্টার থেকে কারও ওপর গুলি ছোড়া হয়নি।
এবং -
এখন আমরা জানি, র্যাবের হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ করে আন্দোলনকারীদের দমনের পরিকল্পনা হয় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ধানমন্ডির শংকরের বাসায়। র্যাবের সাবেক ডিজি ব্যারিস্টার হারুন-অর-রশীদের মাথা থেকে আসে এই পরিকল্পনা।
.
এ ব্যাপারে, -
র্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান বলেন, হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণের ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।
----
🔹 আমাদের কিছু পর্যবেক্ষনঃ
.
১। তাহলে প্রথমবার যা বলা হয়েছিল তা মিথ্যা এবং জগৎ সংসারে এটিই তাদের প্রথম মিথ্যা নয়, ঠিক যেমন এটি তাদের শেষ মিথ্যাও নয়, and just to refresh our memory - মাত্র কিছু দিন আগের ঘটনা; ছেলেকেই তারা মায়ের হত্যাকারী বানিয়ে গ্রেফতার করে সামনে নিয়ে এসেছিল! যা ছিল মিথ্যা!
.
২। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম, কোন আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার থেকে নির্বিচারে গুলি করে সাধারণ মানুষ হত্যার ঘটনা!
.
৩। রাষ্ট্র যখন, জনগণের টাকায় কেনা হেলিকপ্টার, গুলি বারুদ আর তাদের টাকায় কেনা ইউনিফর্ম ব্যাবহার করে সেই জনগণের উপরেই নির্বিচারে গুলি চালায়, তখন আপনাকে বাস্তবতা অবশ্যই বুঝতে হবে। আপনাকে বুঝতে হবে খোদ রাষ্ট্র এবং তার কথিত আইন ব্যাবস্থা আপনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে। অথচ এই রাষ্ট্রকেই আপনি আপনার এবং আপনার পরিবারের নিরাপত্তার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। এরপরে আপনি দেখলেন সেই রাষ্ট্রের হেলিকপ্টার থেকেই গুলি করে আপনার সন্তানকে হত্যা করা হচ্ছে!
.
৪। এটি একক কোন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়। আরো বাস্তবতা হচ্ছে, এগুলো নিজে কোন "রুট কজ" বা মৌলিক সমস্যা নয় বরং এগুলো হচ্ছে, মৌলিক সমস্যার অস্তিত্বের প্রমাণ! এগুলো প্রমাণ করে যে,- আরো গুরুতর কোন মৌলিক সমস্যা আছে যা আমাদের ফাইন্ড আউট করা দরকার।
.
৫। এটি হচ্ছে, আমাদের সামনে উপস্থাপন করা কথিত “জীবন ব্যাবস্থা”র সমস্যা। যার নাম দেয়া হয়েছে “ডেমোক্রেসি” এবং তার কথিত একটা “সংবিধান” আছে যা মানুষের তৈরি করা।
.
৬। প্রশ্ন করুন, এই ডেমোক্রেসি এবং এই সংবিধানের মৌলিক উদ্দেশ্য কি? ডেমোক্রেসির ডেফিনিশিনে প্রথম কথাটিই হচ্ছে, “Democracy is for the peple ...” অর্থাৎ ডেমোক্রেসি হচ্ছে জনগণের জন্যই এবং বাস্তবতা হচ্ছে, তা আমাদের বুকে গুলি চালায়, নির্বিচারে!
এই ডেমোক্রেসি এবং এই সংবিধানের দোহাই দিয়েই কিন্তু তারা আমাদের উপরে চেপে বসে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার, গুন্ডা লীগ, সবাই মিলে ... রাস্তা থেকে, সাঁজোয়া গাড়ি থেকে, ব্যালকনি থেকে, ছাদ থেকে, হেলিকপ্টার থেকে ... তারা আমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু তাদের সামনে দাঁড়ানোর মত আমার, আপনার কী আছে!
.
৭। এবং দেখুন,- ইতিহাস থেকে আমরা আপনাদের একটি বাস্তব ঘটনা শেয়ার করছি। একজন শাসক তাঁর অধীনস্থদের নিচের কথাগুলো বলেছিলেন –
"আমাকে তোমাদের শাসক বানানো হয়েছে। সুতরাং জেনে রাখো, আমার রূঢ়তাও দ্বিগুন হয়েছে। তবে এটা শুধু জালিম এবং দুষ্কৃতিকারীদের জন্য। আর যারা ধার্মিক এবং শ্রেষ্ঠ ব্যাক্তিত্বের অধিকারী ও ভালো মানুষ তাদের জন্য আমি খুবই নমনীয়। তবে আমি কাউকে এ সুযোগ দেবোনা যে, সে জুলুম বা সীমালঙ্ঘন করবে। বরং আমি তার মাথার এক পাশ মাটির ওপর রেখে অপর পাশের উপরে দুই পা রেখে চাপ দেব, যতক্ষণ না সে সত্যের অনুগত হয়। আমার উপর তোমাদের কিছু অধিকার আছে তোমরা সেগুলো আমার কাছ থেকে আদায় করে নেবে। "
.
বলুন তো, আমাদের সামনে যখন কোন জালিম নির্বিচারে গুলি চালিয়ে আমাদের হত্যা করে, আমাদের সন্তানদের হত্যা করে, কারণ আমরা দুর্বল, আমরা অসহায়; তখন কেউ যদি আমাদের ঠিক উপরের এই কথা গুলোই বলত তবে আমরা তাকে কিভাবে গ্রহণ করতাম!
.
এমন কাউকেই আমরা আমাদের উপরে শাসক হিসেবে চাইতাম কিনা, যিনি বলবেন, - তোমাদের উপরে যে জুলুম করবে আমি তার মাথার উপরে পা রেখে তাকে রগড়াতে থাকবো যতখন না সে সত্যের অনুগত হয়!
.
আসুন জেনে নেই, - এটি হচ্ছে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর রাঃ এর ভাষণ! সমগ্র ইসলামি জাহানের খলিফা হবার পরে তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন সেখান থেকে সামান্য কিছু অংশ। আর তাঁর এই ভাষণের অনুপ্রেরনা ছিল আল্লাহর আইন এবং রাসুল সাঃ এর সুন্নাহ!
.
আমরা বলেছিলাম, এই জুলুম নিজে কোন রুট কজ নয় বরং এই জুলুম অন্য কোন একটি রুট কজের প্রমাণ। আর সেই রুট কজটি হচ্ছে, - আমাদের উপরে আল্লাহর নির্ধারণ করে দেয়া ইনসাফ, আইন, হুকুমের বাস্তবায়ন না থাকা।
.
এটি অনুধাবন করা ব্যাতিত অন্য যে কোন প্রচেস্টা আসলে নিজেকে প্রবঞ্চনা করা ছাড়া আর কিছুই না! যে প্রবঞ্চনার মধ্যেই আমরা যুগের পর যুগ ঘুরতেই আছি!