 |
| আইনজীবী : ফিলিং স্টেশনের সামনে না, অপহরণ করা হয় কালিগঞ্জ রোডের ব্রীজের পর! |
মুহিব্বুল্লাহ হুজুরের স্বেচ্ছায় আত্মগোপন মর্মে পুলিশের যে ন্যারেটিভ সে প্রসংগে আমার কিছু কথা।
১. জুলকারনাইন সায়েরের পেইজে সিসি টিভি ফুটেজ প্রসংগে :
উনাকে যে ফুটেজ গুলো সরবরাহ করা হয়েছে এবং মুহিব্বুল্লাহ সাহেবের শুরু থেকে তিনি অপহৃত হয়েছেন মর্মে উনার বক্তব্যের স্বপক্ষে যুক্তি মিলে যায়। কারণ উনি গত শুক্রবারে খুতবায়, টংগী স্টেশন রোডে বিক্ষোভ মিছিলে দেয়া বক্তব্য এবং থানায় মামলা করার সময় বলেছেন, উনি সকাল বেলায় বাসা থেকে নিয়মিত মর্নিং ওয়াকের ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন টংগী কালিগঞ্জ রোডে হাটতে থাকেন এবং ব্রীজ পার হলে একটি এম্বোলেন্স আমাকে চাপা দিয়ে গতিরোধ করে দাঁড়ায় এবং চার পাচ জন লোক আমাকে টেনে হিছড়ে গাড়িতে উঠিয়ে কালো কাপড়ে চোখ ঢেকে ফেলে। তখন থানা কর্তৃপক্ষ বলে আপনি যে জায়গার কথা বলেছেন সেটা পুবাইল থানার অধীনে। আর ব্রীজের এই পাশটা টংগী পূর্ব থানার অধীনে সেক্ষেত্রে প্লেস অব অপারেশন টা ব্রীজের এই পাড়ে দিলে আমাদের থানার অধীনে হয়। এছাড়া টংগীর আলেম উলামারাও চান এখানেই হোক। বিষয়টা মামলা দায়েরের পর থানার ওসি সাহেব উনার উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকেও জানান যে এই কারনে Place of Occurrence ব্রীজের এই পাশে ফিলিং স্টেশনের সামনে দেয়া হয়েছে। (উল্লেখ্য যে, মামলা দায়েরের সময় উনার আইনজীবী হিসেবে আমি উপস্থিত ছিলাম)
তাহলে উনি ফিলিং স্টেশনের সামনে দিয়ে হেটে ব্রিজ পর্যন্ত গিয়েছেন এটা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ এবং উনার বক্তব্যের সংগে মিলেই যাচ্ছে।
2. তারপর যেটা বলা হচ্ছে, উনি এখান থেকে ব্যাক করে শ্যামলি কাউন্টারে গিয়েছেন। তাই যদি সত্য হয় তাহলে ফিলিং স্টেশনের সামনে দিয়ে যাওয়ার সিসি ফুটেজ পাওয়া গেলো ফিরার ফুটেজ কোথায়? টংগী কালীগঞ্জ রোড ধরে তো সিলেট যাওয়া যায়, পঞ্চগড় যাওয়ার রাস্তায় যেতে হলে ব্যাক করতে হবে।
3. তারপর বলা হলো শ্যামলি বাসে উনি দিনাজপুর গেছেন। ভালোকথা, শ্যামলি পরিবহণ একটি আন্তদেশিয় পরিবহন। তাদের কাউন্টারে সিসি ক্যামেরা অবশ্যই থাকবে। সেই সিসিটিভির ফুটেজ কোথায়? দূরপাল্লার সব বাস রাস্তায় বিরতি দেয়, শ্যামলি পরিবহণ নিশ্চয়ই ভালো কোন হোটেলেই বিরতি দিবে। সেই হোটেলে সিসিটিভি ফুটেজে মুহিব্বুল্লাহ সাহেবের উপস্থিতি থাকার কথা। সেগুলো কোথায়?
এই বিষয়গুলো আশা করি গাজীপুর পুলিশ মিলিয়ে দিবে। না হয় পুরানো স্টোরি দিয়ে, ভিক্টিমকে বাধ্য করে স্টেটমেন্ট দিয়ে গল্প বানানো জনগণ মানবে না।
চব্বিশের ছত্রিশ জুলাইয়ের পর এধরনের গল্প এই স্বাধীন দেশের জনগণ আর খায়না।
লিখা :- Omar Faruk Talukder ( মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ মিয়াজির মামলার আইনজীবী)