>
আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার করুন আমাদের সাথে।
![]() |
| পাক আর্মীর সাথে কাবায়েলীদের যুদ্ধ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা। |
এক. শুরুতেই আমাদের একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে জানা থাকতে হবে,পশতু ও কাবায়েলী অঞ্চলগুল ভারতভাগের বদৌলতে স্বাধীনতা লাভ করেনি;বরং জিহাদের মধ্য দিয়ে রক্তের বিনিময়ে তা অর্জিত হয়েছে। ইংরেজরা পুরা উপমহাদেশ করতলগত করতে সক্ষম হলেও তাদের কাবু করতে পারেনি।পশতুনরা ziহা%দে র আগুন প্রজ্জলিত রাখে। পশতুনদের জি-হা#দি জজবার সাথে কুলিয়ে উঠতে না পেরে ইংরেজরা কোনোরকমে চুক্তি করে এই মৃত্যুভূমি থেকে পালিয়ে বাঁচতে বাধ্য হয়।
এ ঐতিহাসিক সত্যও সবার জানা—পাকি-স্তান প্রশ্নে দলমত-নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল মূলত পাকি-স্তান প্রতিষ্ঠার দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে। আর তা ছিলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। অর্থাৎ ইসলামি শাসনব্যবস্থা বাস্তবায়ন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত ইংরেজদের উত্তরপুরুষ পাকি-স্তানি সেনাবাহিনী এবং রাজনীতিবিদদের জন্য এই স্বপ্নপূরণ তো দূর; তারা বরং তা আলোর মুখ দেখার সবগুলো পথ বন্ধ করার জন্য এখনও সমানতালে কাজ করে যাচ্ছে। জানা কথা—পাকি-স্তান যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সামনে রেখে সৃষ্টি হয়েছিল, সেসবের বিরোধিতা করে পাকিস্তানের ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট করার মধ্য দিয়ে এরাই বরং দেশে সশস্ত্র জি@হা&দকে শরয়ি ও নৈতিক দিক থেকে অপরিহার্য করে তুলেছে।
দুই. এই কথাগুলো খুব ভালোভাবে মনে রাখতে হবে, পাকি-স্তান সৃষ্টির পর পশতুনরা ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম কায়েমের শর্তে’ তাদের সাথে থাকতে সম্মত হয়। মূলত মুহাম্মদ আলি জিন্নার অনুরোধে শাইখুল ইসলাম শিব্বীর আহমদ উসমানি এবং মুফতিয়ে আজম পাকিস্তান মুফতি শফি রহিমাহুমাল্লাহ এখানে আসেন। পশতুনদের মধ্যে দেওবন্দের ভক্ত ও মুরিদান সবসময়ই বেশি ছিল। সংগতকারণেই এই দুই আকাবিরের কথায় ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম কায়েমের শর্তে’ তারা পাকি-স্তানের সাথে থাকতে রাজি হয়। পাকি-স্তান সৃষ্টির কয়েক বছর পর সোয়াতও ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম কায়েমের শর্তে’ পাকি-স্তানভুক্ত হয়।[১]
দুর্ভাগ্যজনকভাবে সাত দশক অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরেও সে ওয়াদা পূরণ করা তো দূরের কথা; এখন তো বরং সেই শর্তের জন্য আওয়াজ ওঠানোকেও ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচনা করা হয়।[২]
কেবল তাই নয়,এই আওয়াজ ওঠানো এবং শর্তের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার মহা অপরাধে নাপাক সেনা ইসলামাবাদে জামিয়া হাফসায় চালায় নৃশংস হামলা। এমনকি নরপশুদের হাত থেকে রেহায় পায়নি জামিয়া হাফসার নিস্পাপ ছাত্রিরাও। নির্মমভাবে আলেমদেরও শহীদ করে ওরা।[৩]
তিন. বাস্তবতা হলো,ডুরান্ড লাইনের (Durand Line) আশেপাশের মুজাহিদদের সাথে না পেরে ইংরেজ সরকার ওই সময় একটা ঐতিহাসিক চুক্তি করতে বাধ্য হয়। বিখ্যাত সেই চুক্তিতে পশতুনদের স্বাধীন থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। পাকিস্তান সৃষ্টির পর মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ এবং পশতুনদের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতেও ইংরেজদের সাথে কৃত চুক্তি বহাল থাকার বিষয়টি উল্লেখিত হয়।
আফগান কাবায়ীলের আজাদিপ্রেম প্রবাদতূল্য। তাদের এই স্বাধীনতাপ্রশ্নে আপসহীনতার কাছে ইংরেজরা হার মানতে বাধ্য হয়। তৎকালীন পরাশক্তি সোভিয়ের ইউনিয়নকেও তারা সফলভাবে মোকাবেলা করে। রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে আফ-গানি-স্তান তখন হয়ে উঠেছিল দুনিয়াজোড়া মু**জা-হি+দ-দের একমাত্র শিবির বা ব্যাসক্যাম্প (basecamp)। তাদের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তায় আফ-গান শুধু কম্যিনিস্টদের দখল মুক্তই হয়নি; টুকরো টুকরো হয়ে যায় সোভিয়েতের অহমের সেই লাল পতাকাও।
চার. ৯/১১ এর পর বিশ্বকুফুরি শক্তি এবং তাদের ডলারে পালিত গোলামেরা যখন আমেরিকার নেতৃত্বে আফ-গানে হামলা করে-পশতু কাবাইল তখন আবার মুঃ-জা-হি*দদের নির্ভয় আশ্রয়স্থল হয়ে ওঠে। আফ-গান হয়ে ওঠে জি**হা/*দের একমাত্র কেন্দ্র। পশ্চিমা সন্ত্রাসীদের মোকাবেলায় এখান থেকেই সূচিত হয় সম্মিলিত জি@হাদের সেই অভূতপূর্ব সাহসি প্রদক্ষেপ,যার ফলাফল আজ আমাদের চোখের সামনে। আমেরিকা আজ পরাজিত এবং ইমা-রাতে ইস-লামিয়া আজ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত।আলহামদুলিল্লাহ।
অবশ্য পালানোর আগে আমেরিকা শেষ পেরেকটি ঠুকে যায়। পশতুনদের জি+হা(-দি জজবা খতম করতে তাদের ভূমি পশ্চিমাদের দালাল এবং গণতন্ত্রপন্থিদের হাতে তুলে দেয়। আমরা আগেও বলেছি,কাবায়েল সবসময়ই আজাদিপ্রশ্নে আপসহীন। শেষ রক্তবিন্দু বাকি থাকা পর্যন্ত গোলামির বিনিময়ে আজাদি বেচতে তারা রাজি হবে না।
পাঁচ. আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চলমান এই যুদ্ধ তারা শুরু করেনি। এই যুদ্ধ বরং তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমেরিকা যখন ৪৮ দেশের সম্মতি ও সহায়তায় (পাকি-স্তান সেসবের ফ্রন্টলাইনে ছিল) ইমা-রাতে ইস-লামিয়ায় হামলা করে। তখন হাজারো মুহাজির দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাবাইলে হিজরত করতে বাধ্য হন। উলামায়ে কেরামের সম্মিলিত ফতোয়ার আলোকে ইমা-রাতে ইস-লামিয়ার পক্ষে প্রতিরক্ষামূলক জি-হাদ তাদের জন্য তখন ফরজ হয়ে যায়। কাবায়েলিরা নিজেদের স্বাধীন ভূখণ্ডে ইমা-রাতে ইস-লামিয়া থেকে আগত মুহাজিরদের আশ্রয় দেয় এবং তাদের যার যা আছে, তা নিয়েই ইমা-রাতে ইসলামিয়ার পক্ষে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আফ-গানি-স্তানে দখলদার খ্রিষ্টান সৈন্য, তাদের ডলারে পালিত স্থানীয় গোলাম এবং এজেন্টদের বিরুদ্ধে তারা সশস্ত্র জি-হা…দ শুরু করে। পাকি-স্তানের ইসলামি আদর্শ বিবর্জিত সৈন্যরা তাদের পশ্চিমা প্রভুদের খুশি করতে তাদের এবং তাদের মেহমানদের ওপর হামলা শুরু করে। হাজারো মানুষ শহিদ হয়। ওজিয়িরিস্তান থেকে সোয়াত পর্যন্ত অজস্র মসজিদ-মাদরাসা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। পাকি-স্তানের অন্যান্য শহরে আশ্রয় নেওয়া মুহা-জির, আন-সার এবং সহায়তাকারীদের গ্রেফতার করে আমেরিকানদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার এক অনিঃশেষ সিলসিলা শুরু হয়। ডা আফিয়া সিদ্দিকা-সহ ৬ শতাধিক মুজা-হিদ-দের পশ্চিমাদের কাছে বিক্রি করা হয়। ফলে দেওবন্দের সাথে সম্পর্ক রাখা ৫ শতাধিক মুফতি পাকি-স্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র জি-+হা৳*দের ফতোয়া দেন। এই ফতোয়ার পর তারা পাকি-স্তানি সৈন্যের বিপক্ষেও জি-হা± শুরু করে। ফলে একই সাথে দুই ময়দানে তাদের জি-·—হা-দ করতে হয়[৪] এবং এক ময়দানে আল্লাহ তাআলা তাদের ঐতিহাসিক বিজয় (ইমারাতে ইসলামিয়া আফ**) দান করেছেন। কেন ইতিহাস জানা জরুরি আশা করি এতোক্ষণে পাঠকদের বুঝে এসেছে।
এই হচ্ছে প্রকৃত ইতিহাস। এসব হাওয়া বাতাস থেকে নেওয়া কোনো কথা নয়। কিংবা বাংলাদেশে বসে লিখে ফেলা কোনো ব্যাক্তির লেখাও নয়। তো এখন আমরা কেন কী উদ্দেশ্যে তাদের উপর নাপাক আর্মীর সমস্ত অপরাধের বৈধতা দিয়ে দিব বা দিয়ে দিচ্ছি সেটা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন।
তথ্যসূত্র,
১) তামীরে পাকিস্তান আওর উলামায়ে রাব্বানী,১২৯
২) বাসায়ের ওয়া ইবার,২/৯৭; হুসনে ইউসুফ,১/৯-১০; সদায়ে হক,১৩১; বাসায়ের ওয়া ইবার,২/১৪১-১৪২
৩) খাওয়ারিজম সাম্রাজ্যের ইতিহাস,১/১৩৫; আরব্য রজনীর নতুন অধ্যায়, ১০০-১০৭
৪) বিস্তারিত দেখুন, আফগানিস্তানের ইতিহাস; আল মোল্লা মুহাম্মাদ উমর; শাযারাত; ইসলামের দিশারিগন এমনই হন।
~~মাওলানা Fadlullah Zaber হাফিযাহুল্লাহ।