>
আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার করুন আমাদের সাথে।
![]() |
| জাফলং-ভোলাগঞ্জঃ পরিবেশ রক্ষা ও পর্যটনের নামে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে হাজার কোটি টাকার ব্যবসা! |
জাফলং-ভোলাগঞ্জঃ পরিবেশ রক্ষা ও পর্যটনের নামে ভা/র'তে|র হাতে কত টাকার ব্যবসা তুলে দেয়া হয়েছে?! পর্যটন থেকে মাত্র ২-৩ কোটি টাকা বছরে আয় বাঁচানোর জন্যে আমরা প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা জলাঞ্জলি দিচ্ছি!!
----------------------------------------------
ভোলাগঞ্জের পাথর প্রেম তো বহু হল। আমার ভাইরাল হয়ে যাওয়া লেখাটা শত শত ওয়ালে পোস্ট হচ্ছে এবং তাতে অনেক জ্ঞানী মুনিষীদের মগজ প্রসূত মন্তব্য পড়ে নিজেকে নিতান্তই নির্বোধ মনে হয়েছে।
আসেন একটু পড়ালেখা করে তথ্য প্রমাণ ঘেঁটে দেখি পর্দার আড়ালের আসল ঘটনা কি।
বাংলাদেশে দুই ধরনের পাথর সংগ্রহ করা করা হয়। একটা Renewable Sediment Flow এবং অন্যটা Finite Geological Deposit।
প্রথমটা হল সিলেটে যে টাইপ পাথর আমরা সংগ্রহ করি। যার জন্যে আমাদের প্রেম ভালবাসা উতলে উঠছে।
এইটা রিনিউয়েবল। এর মূল সোর্স মেঘালয়ের পাহাড়ি অঞ্চল যা ভোলাগঞ্জ জাফলং থেকে ১৬০০ থেকে ২১০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত।
সাস্টেইনেবল প্ল্যান বাস্তবায়ন করে এই পাথর সংগ্রহ করা হলে তা অনির্দিষ্টকাল ব্যাপী সংগ্রহ সম্ভব।
দ্বিতীয়টা হল দিনাজপুরের মধ্যপাড়া মাইনিং পয়েন্ট থেকে যে পাথর উত্তোলন করা হয় সেটা। কুপ খনন করে মাটির তলদেশ থেকে এই পাথর সংগ্রহ করা হয়, যেটা লিমিটেড। রিজার্ভ শেষ তো পাথর শেষ। এবং ভূমি ধ্বস ও পরিবেশের বিপর্যয়ের জন্যে মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। (রেফা: ১)
সিলেটের ভোলাগঞ্জের পাথর সংগ্রহের বিরুদ্ধে অন্যতম অভিযোগ পরিবেশ ও পর্যটনের ক্ষতি।
বলা হয়ে থাকে ভোলাগঞ্জ থেকে পাথর ও বালি উত্তোলন করা হলে সেখানে নদী পাড় ভাঙনের শিকার হবে, নদী তার গতিপথ হারাবে, বন্যার আশংকা বৃদ্ধি পাবে, পর্যটন ব্যবস্থা বিপর্যস্থ হবে।
ঐতিহাসিকভাবে পাথর উত্তোলনের ফলে ধলাই নদীর গতিপথ কি আসলেই পরিবর্তন হয়েছে?
নদীর পাড় ভাংলেই গতিপথ পরিবর্তন হয়। অথচ ১৯৮৫ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত স্যাটেলাইট ইমেজ তীক্ষ্ণভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় ভোলাগঞ্জের প্রবেশ মুখের ধলাই নদীর গতিপথের কোন প্রকার র্যাডিকাল পরিবর্তনই ঘটেনি। (ছবি কমেন্টে)
বরং ২০২৪ সালে এসে দেখা যাচ্ছে ধলাই নদীর প্রবেশ মূখ মৃত প্রায়। অর্থাৎ এখানে স্যাডিমেন্ট ফ্লো জমে নদীর স্বাভাবিক পথই বন্ধ করে দিয়েছে।
জাইকার এক রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ অংশে ড্রেইনেজ সিস্টেম কমে যাওয়া, সিলেট অঞ্চলে নদী প্রবেশমুখগুলো অতিরিক্ত স্যাডিমেন্ট ফ্লো তে ভরে উঠার কারনে এই অঞ্চল নিয়মিত বন্যা ও ফ্ল্যাশ ফ্ল্যাডে বিপর্যস্থ হচ্ছে। (রেফা: ২)
এতে করে আবাদি জমিতে বালি, নুড়ি পাথর ও কয়লার আস্তরন পড়ে গিয়ে জমির উৎপাদন ক্ষমতা নষ্ট করে দিচ্ছে।
আমরা নিশ্চয়ই ২০২২ ও ২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার ঘটনা জানি। নিকট ইতিহাসে আর কখনোই এই অঞ্চলে এরকম রিপিটেটিভ বন্যার দেখা মিলেনি।
অর্থনীতির হিসাবে পর্যটনের আড়ালে আমাদের কত টাকার ব্যবসা ভারতের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে?
U.S. Geological Survey এর ২০২৪ এর এক রিপোর্ট অনুসারে বাংলাদেশের বাৎসরিক ক্রাশড স্টোনের চাহিদা ১০ মিলিয়ন টন। যেখানে ২০২০ সালে বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ উৎপাদন ছিল ৮.৭৫ মিলিয়ন টন। (রেফা: ৩)
এবং ২০২১ সালে সেই আভ্যন্তরীণ উৎপাদন ২৩% কমে যায়।
২০২৩ সালে বাংলাদেশ ৬.৫ মিলিয়ন টন পাথর আমদানি করে যার মধ্যে ভারত থেকেই ৩.৬ মিলিয়ন টন অর্থাৎ আমদানির ৫৫%। যার বাজার মূল্য আনুমানিক প্রায় ৭২ মিলিয়ন ডলার। (রেফা: ৪)
২৪ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী মধ্যপাড়া খনি থেকে উৎপাদন হয় ১.৩১৬ মিলিয়ন টন যা মোট চাহিদার মাত্র ১৩.২%। (রেফা: ৩)
অন্যদিকে সিলেটের পয়েন্টগুলো থেকে যদি ডেভলপমেন্ট ব্যালেন্সড প্ল্যানিংয়ের মাধমেও উত্তোলন নিশ্চিত করা যায় তবে বছরে ৪.৫ মিলিয়ন টন উৎপাদন করা যাবে পরিবেশ ও পর্যটনের কোন প্রকার ক্ষতি না করেই। যা মোট চাহিদার ৪৫%। (রেফা: ৫)
ভোলাগঞ্জ ও জাফলংয়ে সরকারের পর্যটন থেকে আয়ের ডকুমেন্টেড কোন রেকর্ড নেই। তবে এক হিসাব মতে ভোলাগঞ্জ পর্যটন স্পট ইজারা দিয়ে সরকার বছরে মাত্র ২-৩ কোটি টাকা আয় করে।
অন্যদিকে সিলেট অঞ্চল থেকে সবচেয়ে কার্যকরী উপায়ে পাথর উত্তোলন করা গেলে ভোলাগঞ্জ জাফলং ও অন্যান্য পয়েন্ট থেকে গড়ে দিনে চার লক্ষ সিএফটি পাথর উৎপাদন করা সম্ভব।
এই পাথর পরিবহনে যদি ১০০০ ট্রাক চলাচল করে তবে তা থেকে সরকার দিনে আয় করতো ৭ লক্ষ ৮৪ হাজার টাকা যা বছরে প্রায় ২৮০ কোটি টাকা। (রেফা: ৫)
এছাড়া কোয়ারীগুলো থেকে সরকার বছরে প্রায় ২৯ কোটি টাকা রাজস্ব পেত।
আমাদের রাষ্ট্রের বর্তমান দৈনিক চাহিদা ৬.৫ লক্ষ সিএফটি।
সিলেট অঞ্চলের পাথরের সুষ্ঠু উত্তোলন সম্ভব হলে আমরা দৈনিক ৪.৫ লক্ষ সিএফটি পাথর উত্তোলন করতে পারি। যার দ্বারা বছরে আমাদের ৯০ মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ১২ শ কোটি টাকারও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
এর সাথে জড়িত হাজারের উপর কোয়ারী, প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান এবং পরিবহন ব্যবস্থার অর্থনৈতিক ইম্প্যাক্টতো আছেই।
পর্যটন থেকে মাত্র ২-৩ কোটি টাকা বছরে আয় বাঁচানোর জন্যে আমরা এই কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা কেন জলাঞ্জলি দিচ্ছি?
যেখানে ২০২৩ সালে মোট আমদানি ১২৭ মিলিয়ন ডলার আর তাতে ভা'র|তে/র শেয়ার ৭২ মিলিয়ন ডলার এবং সরকার ইটভাটা বন্ধ করে পাথর নির্ভর ব্লক ব্যবহারে ব্যাপক জোর দিয়েছে।
সেখানে এবার আপনারাই বিচার করুন, কার স্বার্থে আইনি প্যাঁচের হাইকোর্ট ও নদী ভাঙ্গন পরিবেশ বিপর্যয়ের জুজু দেখিয়ে ভোলাগঞ্জ ও জাফলং-কে ECA ঘোষণা করে পাথর উত্তোলন পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে?
-------------------------------
এই স্ট্যাটাসের সকল স্টাডি ম্যাটারিয়াল এর রেফারেন্স
১. পাথর খনির পরিবেশ বিপর্যয়
Socio-economic and Environmental Impacts of Stone Mining in Shivpuri District, Madhya Pradesh, India - Researchgate
২. নদীতে স্যাডিমেন্ট জমে যাওয়াতে ফ্ল্যাশ ফ্লাড
DATA COLLECTION SURVEYONWATER RESOURCES MANAGEMENTINHAOR AREA OF BANGLADESH - JICA (2013)
৩. বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ চাহিদা ও উৎপাদন
The Mineral Industry of Bangladesh
By Keita F. DeCarlo and Ji Won Moon - USGS (2024)
৪. ভারত থেকে পাথর আমদানি
ANNUAL IMPORT PAYMENTS OF GOODS AND SERVICES 2022-2023 - Bangladesh Bank
৫. সিলেট অঞ্চলের পাথর সম্পদের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা
Sustaining Factors on Stone Business in Bangladesh- A Study on Entrepreneurs in Sylhet District by S. M. Saief Uddin Ashik Ahmed
©Muhammad Motahar Hossain