>
আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার করুন আমাদের সাথে।
![]() |
| ভারতের হরিয়ানায় ৫০ বছরের পুরনো মসজিদ গুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন |
ভারতের হরিয়ানার ফরিদাবাদ জেলার বাদখাল গ্রামে ৫০ বছরের পুরনো একটি মসজিদ 'আকসা মসজিদ' অবৈধ ঘোষণা দিয়ে ভেঙে দিয়েছে পৌর প্রশাসন। তবে স্থানীয় মুসলিমদের দাবি, এই জায়গা নিয়ে মামলা এখনো সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন এবং কোনো চূড়ান্ত আদেশ ছাড়াই মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে—যা আইন ও ন্যায়ের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
১৬ এপ্রিল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ক্লারিওন ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৪ এপ্রিল সকালে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে প্রায় ২৫০ জন পুলিশ সদস্য এবং তিনজন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) ছাড়াও ঊর্ধ্বতন পৌর কর্পোরেশন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিল।
স্থানীয়দের মতে, এই ‘আল আকসা’ মসজিদটি গড়ে উঠেছিল পাঁচ দশক আগে, গ্রামের তৎকালীন নির্বাচিত প্রধান (সরপঞ্চ) রাক্কার দানকৃত জমির উপর। দীর্ঘ সময় ধরে এটি মুসলিমদের নামাজ আদায়ের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। হঠাৎ করে এটিকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে সরকারি জমি বলে দাবি করে পৌর কর্পোরেশন। কিন্তু গ্রামবাসীরা বলছেন, জমিটি কখনোই কর্পোরেশনের মালিকানায় ছিল না।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা মুশতাক বলেন, 'প্রথমে তারা কয়েকটা ছোট দোকান ভাঙল, তারপর সরাসরি আমাদের মসজিদের দিকে এগিয়ে এল। আমাদের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি, সময়ও দেওয়া হয়নি। সবকিছু খুব দ্রুত ও আচমকা ঘটল। এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল।'
প্রশাসনের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী এই ধ্বংস কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, কোনো রায় বা আদেশ আদালতের পক্ষ থেকে এখনো প্রকাশ্যে আসেনি, বরং বিষয়টি এখনো বিচারাধীন। এতে স্পষ্টতই আদালতের ওপর প্রশাসনের একতরফা পদক্ষেপের প্রশ্ন উঠছে।
গ্রামের নেতা আসলাম কুরেশি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, 'যদি বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকে, তবে এত তাড়াহুড়ো কেন? এটা কি মুসলিম সংখ্যালঘুদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে নির্বাচনের আগে একটি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা নয়?'
তিনি আরও বলেন, 'এই ধরণের কর্মকাণ্ড শুধু জমি নিয়ে নয়—এটা আমাদের ধর্মীয় পরিচয়, বিশ্বাস ও মর্যাদার উপর আঘাত। যারা এমন কাজ করছে, তারা গণতন্ত্রের নামে বিভাজনকেই এগিয়ে নিচ্ছে।'
শেষ পর্যন্ত, আকসা মসজিদের জায়গাটি এখন শুধুই এক টুকরো ধ্বংসস্তূপ। যেখানে একসময় মানুষ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতো, আজ সেখানে পড়ে আছে শুধুই শূন্যতা, ক্ষোভ আর অনেক না বলা প্রশ্ন। ৭০ বছর বয়সী হাজী নাসির চোখের পানি মুছে বলেন, 'তারা আমাদের মসজিদ ধ্বংস করেছে, কিন্তু আমাদের প্রার্থনা আর আশা ধ্বংস করতে পারেনি।'