>
আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার করুন আমাদের সাথে।
![]() |
| ভারতের মহারাষ্ট্রে হিন্দুত্ববাদীরা বৃদ্ধ মুসলিমকে মারধর করেছে |
বিজেপি-শাসিত মহারাষ্ট্র রাজ্যে হিন্দুত্ববাদী উগ্রপন্থীরা ৬৫ বছর বয়সী এক মুসলিম ব্যক্তিকে নির্মমভাবে মারধর করেছে এবং অর্ধ-উলঙ্গ করে প্যারেড করিয়েছে।
কাশ্মীর মিডিয়া সার্ভিস জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর নাম রউফ শেখ বুরহান কুরেশি, পেশায় তিনি একজন মাংস বিক্রেতা। গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে জলগাঁও শহরের কাছে সরসোলিতে স্বঘোষিত আরএসএস-সমর্থিত গো-রক্ষকদের দ্বারা এই হামলা চালানো হয়েছিল।
কুরেশির পরিবার জানিয়েছে যে, উগ্র হিন্দুরা তাকে আয়েশা মসজিদের কাছে তার বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে যায় এবং রাস্তায় নিয়ে যাওয়ার আগে নির্মমভাবে মারধর করে এবং তারপর শহরের সাপ্তাহিক বাজারে অর্ধ-উলঙ্গ অবস্থায় মারতে মারতে জোর করে একটি ট্রলিতে করে নিয়ে যায়।
কুরেশির স্ত্রী, হাসিনা বিবি বলেন, “আমি একটি ফোন পেয়েছিলাম যে আমার স্বামীকে মারধর করা হচ্ছে। আমি যখন আমার ছেলেকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলাম, তখন দেখলাম তারা তাকে নির্দয়ভাবে লাঞ্ছিত করছে। আমরা বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা আমাদের দূরে সরিয়ে দেয়। এমনকি তারা আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহারও করেছে।”
কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে পুলিশ হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করেনি। উল্টো তারা কুরেশি ও তার ছেলের বিরুদ্ধে গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে মামলা করেছে। এর ফলে পুলিশের পক্ষপাতিত্ব এবং ন্যায়বিচার রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, আইন বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে সুপ্রিম কোর্ট সুস্পষ্টভাবে আইন প্রয়োগকারীকে গো-রক্ষক সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে, এই ক্ষেত্রে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা উদ্বেগের বিষয়।
স্থানীয় কর্মী ফারুক শেখ জানান, কুরেশির অবস্থা এতটাই গুরুতর যে তাকে আদালতে হাজির করাও সম্ভব হয়নি। এ ঘটনার বিচার না হলে জেলা পুলিশ কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে স্থানীয় সুশীল সমাজ।
এই ঘটনাটি ভারতে হিন্দুত্ববাদী উগ্রপন্থীদের সহিংসতা এবং গো-রক্ষা আইনের অপব্যবহার নিয়ে বিতর্ককে আবার নতুন করে তুলেছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের নৃশংসতা প্রতিরোধ করার জন্য শক্তিশালীভাবে আইন প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।