>
আপনার ব্র্যান্ডের প্রচার করুন আমাদের সাথে।
সম্প্রতি কক্সবাজারের উখিয়ায় তিন তরুণ কে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। গ্রেপ্তারের কারণ হিসেবে জানানো হয়,তারা কা*লে*মার পতাকার প্রসার করছিল।
গত ২১ জানুয়ারি, (মঙ্গলবার) কক্সবাজার থেকে ডিবির কর্মকর্তারা তাদের ফোন করে রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ে দেখা করতে বলে।রাত হওয়ায় তারা সেখানে যাওয়ার অপারগতা প্রকাশ করলে তাদের নিকটস্থ উখিয়া থানায় গিয়ে ওসি আরিফ হোসাইনের সাথে দেখা করতে বলেন। নিকটস্থ হওয়ায় তারা তিন জনই সরল মনে উখিয়া থানায় গিয়ে যোগাযোগ করে। সেখানে তাদেরকে।জিজ্ঞাসাবাদ করে গ্রেপ্তার করে ওসি।পরে সেখান থেকে কক্সবাজারের ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয় তাদের তিন জনকেই।
এদিকে সেদিন রাত থেকে তাদের খুঁজ করতে থাকেন পরিবার। সারা রাত খুঁজ করেও না পেয়ে তিন পরিবারের সকলেই চিন্তিত হয়ে পড়েন।পরদিন বুধবার আবারও খুঁজ করতে শুরু করেন পরিবার।চারদিকে খবর নেওয়ার পরেও কোন তথ্যে না পেয়ে সকলের মধ্যেই একটি অনিশ্চিত ভয় কাজ করা শুরু করে।এভাবে আজ বৃহস্পতিবার সকালে তিন পরিবার উখিয়া থানায় হাজির হয় প্রশাসনের সাহায্যের জন্যে।কিন্তু প্রশাসন তাদের কে কোন সাহায্য করে নি।সাথে তারা ওই তিন জনের বিষয়ে কোন কিছুই জানে না বলে অস্বীকৃতি জানায়।একই দিন (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় তারা স্থানীয় মেম্বার জালাল উদ্দীন সহ আবারও উখিয়া থানায় গেলে তারা বলেন ওই তিনজন এখন ডিবির হেফাজতে।কিন্তু কেন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার কোন কারণ উল্লেখ করা হয় নি।
এমতাবস্থায় পরিবার নিরুপায় হয়ে,আবারও ছুটে যান তাদের কোমলমতি সন্তানদের খুঁজে কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ে। অবশেষে অনেক্ষণ অপেক্ষার পর পরিবারের সাথে দেখা করতে দেওয়া হয় ওই তিন যুবককে। কিন্তু ততক্ষণে ডিবি বিষয়টিকে আইনি ভাবে জটিল করে ফেলেন। ডিবির পক্ষ থেকে তাদের পরিবারকে জানানো হয় আগামী রবিবার তাদের কে আদালতে হাজির করা হবে।সেখানেই ফায়সালা হবে তাদের পরবর্তী প্রদক্ষেপ কি হবে সেটা।
পরিবারের সাথে সাক্ষাৎকালে ওই তিন যুবক জবানবন্দি দেন যে,তারা কালেমাকে ভালোবেসেই এই পতাকা উড়িয়েছে বিভিন্ন জায়গায়।তাদের ভিন্ন কোন উদ্দেশ্য ছিল না।কিন্তু পতাকা উড়ানোই তাদের সাথে সাংবাদিক পরিচয়ে এর আগে নানান বিষয়ে কথা বলেন অচেনা অজানা কেউ কেউ। এতে ধারণা করা হচ্ছে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছিলেন কোন সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা।
উল্লেখ্য, বাম দিক থেকে সাদা টুপি পরিহিত যুবক হচ্ছেন মরহুম ইমাম শরিফের পুত্র ওমর ফারুক (২৫), কালো টুপি পরিহিত যুবক আব্দুল্লাহর পুত্র মো. রুবেল(২৫) এবং টুপি ছাড়া সাদা গেঞ্জি পরিহিত যুবক আলি হোছেনের পুত্র সাইফ তারেক(২২)।তারা প্রত্যাকেই কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়া পালং ইউনিয়নের অন্তর্গত সোনার পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সচেতন মহলের দাবী,ওই তিন যুবকের প্রত্যাকেই সাদা সিধে ও সরলমনা যুবক।এলাকায় তাদের সুনাম আছে।এবং রাষ্ট্রবিরোধী কোন কাজে কখনো লিপ্ত ছিল না।।কালেমার পতাকা উড়ানো, হয়তু তাদের ভালোলাগা থেকেই করেছে হয়তু।এভাবে এতে তাদের কে গ্রেপ্তার করে হয়রানি করা ও তাদের অল্পবয়সে কালো দাগ লাগানোটা মোটেও উচিৎ হয় নি।বিগত সময়ে হাসিনা সরকার এহেন কর্মকাণ্ড করে থাকলেও বর্তমান সময়ে এসে প্রশাসনের এমন কাজের প্রতি নিন্দা প্রকাশ করেছেন তারা।